বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কারক ও বিভক্তি। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএস, শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA), প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
তবে অনেক শিক্ষার্থী কারক ও বিভক্তির সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, পার্থক্য এবং ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্ত থাকে। বিশেষ করে একই বিভক্তি বিভিন্ন কারকে ব্যবহৃত হওয়ায় এবং বাক্যে কারক নির্ণয়ের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এই কারণে শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ করলেই হবে না; প্রতিটি কারকের কাজ, বিভক্তির ব্যবহার এবং বাক্যে এগুলো কীভাবে নির্ণয় করতে হয়, তা স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি।
এই আর্টিকেলে আমরা কারক ও বিভক্তির মৌলিক ধারণা, প্রকারভেদ, সহজে চেনার কৌশল, কারক ও বিভক্তির মধ্যে পার্থক্য, পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ধরন এবং মনে রাখার কার্যকর টেকনিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। ফলে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা এই অধ্যায় সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ও শক্তিশালী ধারণা লাভ করতে পারবেন।
কারক কাকে বলে?
ক্রিয়াপদের সঙ্গে বাক্যস্থিত বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সম্পর্ককে কারক বলে।
উদাহরণ: রহিম বই পড়ে।
এখানে ‘‘রহিম’’ (কাজের কর্তা) এবং ‘‘বই’’ (কর্ম) — উভয়ের সঙ্গে ‘‘পড়ে’’ ক্রিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই ‘‘রহিম’’ ও ‘‘বই’’ কারক।
কারকের বৈশিষ্ট্য
কারক ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নির্দেশ করে।
বিশেষ্য ও সর্বনাম পদে কারক নির্ণয় করা হয়।
বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে কারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কারক সাধারণত বিভক্তি বা অনুসর্গের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
একটি বাক্যে একাধিক কারক থাকতে পারে।
কারক ছাড়া বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে অন্যান্য পদের সম্পর্ক বোঝা কঠিন হয়।
বাক্যে কারকের ভূমিকা:
১। কর্তা নির্দেশ করে: কে বা কী কাজ করছে তা বোঝায়।
উদাহরণ: রফিক স্কুলে যায়।
এখানে ‘‘রফিক’’ কর্তৃকারক।
২। কর্ম নির্দেশ করে: ক্রিয়ার কাজটি কিসের ওপর সংঘটিত হচ্ছে তা বোঝায়।
উদাহরণ: রফিক বই পড়ে।
এখানে ‘‘বই’’ কর্মকারক।
৩। উপকরণ নির্দেশ করে: কোন মাধ্যম বা যন্ত্রের সাহায্যে কাজ হচ্ছে তা বোঝায়।
উদাহরণ: সে কলম দিয়ে লিখে।
এখানে ‘‘কলম’’ করণ কারক।
৪। প্রাপক নির্দেশ করে: কাকে বা কার জন্য কিছু করা হচ্ছে তা বোঝায়।
উদাহরণ: আমি ভাইকে উপহার দিলাম।
এখানে ‘‘ভাইকে’’ সম্প্রদান কারক।
৫। উৎস বা বিচ্ছেদ নির্দেশ করে: কোথা থেকে বিচ্ছেদ বা উৎপত্তি হচ্ছে তা বোঝায়।
উদাহরণ:গাছ থেকে ফল পড়ল।
এখানে ‘‘গাছ থেকে’’ অপাদান কারক।
৬। স্থান বা অধিকরণ নির্দেশ করে: কোথায় কাজ সংঘটিত হচ্ছে তা বোঝায়।
উদাহরণ: সে মাঠে খেলছে।
এখানে ‘‘মাঠে’’ অধিকরণ কারকের উদাহরণ
বিভক্তি কাকে বলে?
বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাক্যের অন্যান্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ করে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, তাকে বিভক্তি বলে। সহজভাবে বলতে গেলে, কারক বা বাক্যগত সম্পর্ক প্রকাশ করার জন্য শব্দের শেষে যে চিহ্ন যুক্ত হয়, সেটিই বিভক্তি।
উদাহরণ:
রাহিমকে ডাকো। → ‘‘কে’’ বিভক্তি
স্কুলে যাই। → ‘‘এ’’ বিভক্তি
ছেলেরার বই। → ‘‘র’’ বিভক্তি
বিভক্তির প্রয়োজনীয়তা
১। বাক্যে পদের সম্পর্ক প্রকাশ করে
বিভক্তি শব্দগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট করে।
উদাহরণ: রহিম বইটি পড়ে।
২। কারক নির্ণয়ে সাহায্য করে
কোন পদ কর্তৃকারক, কর্মকারক বা অধিকরণ কারক তা বিভক্তির মাধ্যমে বোঝা যায়।
উদাহরণ: আমি ভাইকে ডাকলাম।
৩। বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করে
বিভক্তি না থাকলে বাক্যের অর্থ অস্পষ্ট হতে পারে।
উদাহরণ:
‘‘রহিম করিম ডাকল’’
‘‘রহিম করিমকে ডাকল’’
৪। বাক্যকে ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ করে
সঠিক বিভক্তির ব্যবহার বাক্যকে শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
৫। ভাষার সৌন্দর্য ও সাবলীলতা বৃদ্ধি করে
বিভক্তির সঠিক ব্যবহার ভাষাকে প্রাঞ্জল ও অর্থবহ করে।
বিভক্তির উদাহরণ
বিভক্তি | উদাহরণ | কাজ \ কারক |
শূন্য | পাখি উড়ে | কর্তৃকারক
|
কে | রফিককে ডাকো | কর্মকারক |
র \ এর | ছেলেটির বই | সম্বন্ধ নির্দেশ করে |
এ \তে | স্কুলে যাই | অধিকরণ কারক
|
থেকে | ঢাকা থেকে এসেছি | অপাদান
|
দিয়ে | কলম দিয়ে লিখি | করণ কারক
|
কারক ও বিভক্তির সম্পর্ক
বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নাম পদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ক হলো কারক এবং সেই সম্পর্কটি প্রকাশের জন্য শব্দের সাথে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয় তা হলো বিভক্তি। সহজ কথায়, কারক হলো 'সম্পর্ক' আর বিভক্তি হলো সেই সম্পর্ক প্রকাশের 'চিহ্ন'।
কারক ও বিভক্তির সম্পর্ক নিম্নরূপ:
অর্থ প্রকাশের মাধ্যম: বিভক্তি ছাড়া বাক্যের শব্দগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে না এবং অর্থও স্পষ্ট হয় না। বিভক্তি যুক্ত হয়েই একটি শব্দ বাক্যের কোন কারক (যেমন- কর্তা, কর্ম, করণ) তা নির্ধারণ করে।
সরাসরি ও পরোক্ষ সম্পর্ক: কারক মূলত ছয় প্রকার। এই কারকগুলো বোঝাতে শব্দের সাথে সরাসরি বিভক্তি (০, এ, অ, তে, কে, রে, দ্বারা, দিয়া, হইতে, থেকে) যুক্ত হয়।
শূন্য বিভক্তি: অনেক সময় বাক্যের শব্দে দৃশ্যমান কোনো বিভক্তি চিহ্ন থাকে না, তখন সেখানে 'শূন্য (০)' বা 'অ' বিভক্তি আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
অনুসর্গ ও বিভক্তি: বিভক্তির পাশাপাশি অনুসর্গগুলো (যেমন- দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে) কারকের সম্পর্ক নির্ণয়ে সাহায্য করে।
বৈশিষ্ট্য | কারক | বিভক্তি |
সংজ্ঞা | বাক্যে অবস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ককে কারক বলে । | শব্দ বা ধাতুর সাথে যে বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ যুক্ত হয়ে তাকে পদে পরিণত করে এবং বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, তাকে বিভক্তি বলে |
মূল কাজ | ক্রিয়ার সাথে বাক্যের অন্যান্য পদের যোগসূত্র বা অর্থগত ভূমিকা (কে করছে, কোথায় করছে ইত্যাদি) নির্দেশ করা । | নামপদকে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা এবং পদগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট করা ।
|
গঠন | এটি মূলত একটি সম্পর্ক বা অবস্থা। কারক ছয় প্রকার (কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ) । | এটি হলো বর্ণ বা ধ্বনিগুচ্ছ (যেমন: এ, তে, কে, রে, র) প্রভৃতি । |
অস্তিত্ব | ক্রিয়াপদ না থাকলে কারকের অস্তিত্ব থাকে না। | বিভক্তি নিজে স্বাধীনভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে। |
কারক ও বিভক্তির পার্থক্য
বাংলা ব্যাকরণে কারক ও বিভক্তি পরস্পর অবিচ্ছেদ্য হলেও এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কারক হলো বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে অন্য পদগুলোর সম্পর্ক, আর বিভক্তি হলো সেই সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম ।
নিচে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো দেওয়া হলো:
বৈশিষ্ট্য | কারক | বিভক্তি |
সংজ্ঞা | বাক্যে অবস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ককে কারক বলে । | শব্দ বা ধাতুর সাথে যে বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ যুক্ত হয়ে তাকে পদে পরিণত করে এবং বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, তাকে বিভক্তি বলে |
মূল কাজ | ক্রিয়ার সাথে বাক্যের অন্যান্য পদের যোগসূত্র বা অর্থগত ভূমিকা (কে করছে, কোথায় করছে ইত্যাদি) নির্দেশ করা । | নামপদকে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা এবং পদগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট করা । |
গঠন | এটি মূলত একটি সম্পর্ক বা অবস্থা। কারক ছয় প্রকার (কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ) । | এটি হলো বর্ণ বা ধ্বনিগুচ্ছ (যেমন: এ, তে, কে, রে, র) প্রভৃতি । |
অস্তিত্ব | ক্রিয়াপদ না থাকলে কারকের অস্তিত্ব থাকে না। | বিভক্তি নিজে স্বাধীনভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে। |
কারক কত প্রকার ও কী কী?
বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। বাংলা ব্যাকরণে কারক ৬ (ছয়) প্রকার:
কর্তৃকারক
কর্মকারক
করণ কারক
সম্প্রদান কারক
অপাদান কারক
অধিকরণ কারক
কর্তৃকারক কাকে বলে?
বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ সরাসরি কাজটি সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। সহজ কথায়, যে বা যারা কাজটি করে, সেই হলো কর্তা বা কর্তৃকারক।
কর্তৃকারকের উদাহরণ
নিলয় বই পড়ছে। (কে পড়ছে?)
কর্তৃকারক চেনার সহজ উপায়
বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘‘কে ‘‘ বা ‘‘কারা’’ দিয়ে প্রশ্ন কর বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘‘কী দিয়ে’’, ‘‘কীসের দ্বারা’’ বা ‘‘কী উপায়ে’’ প্রশ্ন করালে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্তৃকারক। যেমন: খোকা বই পড়ে (কে পড়ে ?) এখানে খোকা কর্তৃকারক ।
কর্তৃকারকের প্রকারভেদ
কাজ সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্তৃকারক প্রধানত ৪ ভাগে বিভক্ত:
১. মুখ্য কর্তা (Principal Agent): যে কর্তা নিজে সরাসরি বা স্বাধীনভাবে কাজটি সম্পন্ন করে।
উদাহরণ: মেয়েরা ফুল তুলছে। (এখানে 'মেয়েরা' নিজে কাজ করছে)।
২. প্রযোজক কর্তা (Causative Agent): মূল কর্তা যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজটি করায়।
উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। (এখানে 'শিক্ষক' নিজে না পড়ে পড়াচ্ছেন)।
৩. প্রযোজ্য কর্তা (Agent actuated by another): প্রযোজক কর্তার অধীনে যে ব্যক্তি বা বস্তুটি ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। (এখানে 'ছাত্ররা' হলো প্রযোজ্য কর্তা)।
৪. ব্যতিহার কর্তা (Reciprocal Agent): কোনো বাক্যে যখন দুজন কর্তা একত্রে একই কাজ সম্পন্ন করে।
উদাহরণ: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। (এখানে 'বাঘে' ও 'মহিষে' একত্রে কাজ করছে)।
কর্মকারক কাকে বলে?
যাকে আশ্রয় বা অবলম্বন করে কর্তা তার ক্রিয়া (কাজ) সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। সহজ কথায়, বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘‘কী’’ বা ‘‘কাকে’’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই হলো কর্মকারক
কর্মকারক উদাহরণ
কী দ্বারা প্রশ্ন: ‘‘আমি বই পড়ছি।’’ (ক্রিয়া: পড়ছি। কী পড়ছি? উত্তর: বই) – এখানে বই কর্মকারক।
কাকে দ্বারা প্রশ্ন: ‘‘শিক্ষক ছাত্রকে পড়াচ্ছেন।’’ (ক্রিয়া: পড়াচ্ছেন। কাকে পড়াচ্ছেন? উত্তর: ছাত্রকে) – এখানে ছাত্রকে কর্মকারক।
কর্মকারক চেনার সহজ উপায়
ক্রিয়াকে ‘‘কি বা কাকে’’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক ।
যেমন: নাসিমা ফুল তুলছে (নাসিমা কী তুলছে?) কর্মকারক ।
কর্মকারক প্রকারভেদ
কর্ম কারক প্রধানত ৪ ভাগে বিভক্ত:
১. সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম
সকর্মক ধাতুর নিজস্ব কর্মপদই হলো এর কর্ম।
উদাহরণ: আমি বই পড়ছি। (কী পড়ছি? বই)
২. প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম
কোনো বাক্যে প্রযোজক কর্তার দ্বারা অন্য কেউ কাজ করলে, প্রযোজ্য কর্তার কর্মকে প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম বলে।
উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রকে পড়াচ্ছেন। (কাকে পড়াচ্ছেন? ছাত্রকে)
৩. সমধাতুজ কর্ম
বাক্যের ক্রিয়াপদ ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে।
উদাহরণ: সে দারুণ ঘুম ঘুমিয়েছে।
৪. উদ্দেশ্য ও বিধেয় কর্ম
কোনো বাক্যে দুটি কর্মপদ পাশাপাশি থাকলে একটি 'উদ্দেশ্য' এবং অপরটি 'বিধেয়' কর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: আমি তাকে বোকা ভাবিনি। (এখানে 'তাকে' হলো উদ্দেশ্য কর্ম এবং 'বোকা' হলো বিধেয় কর্ম)
এছাড়া কর্ম কারকের প্রকারভেদে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রয়েছে:
মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম: বাক্যে দুটি কর্ম থাকলে বস্তুবাচকটিকে মুখ্য কর্ম এবং ব্যক্তিবাচকটিকে গৌণ কর্ম বলে।
উদাহরণ: বাবা আমাকে (গৌণ) একটি কলম (মুখ্য) দিয়েছেন।
করণ কারক কাকে বলে?
বাক্য বা বাক্যাংশে কর্তা যার দ্বারা, যে উপায় বা যে উপকরণের সাহায্যে কোনো কাজ সম্পন্ন করে, তাকে করণ কারক বলে ।
করণ কারক উদাহরণ
উপায়/মাধ্যম: সে কলম দিয়ে লেখে । (কী দিয়ে লেখে? কলম দিয়ে)
যন্ত্র: লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয় । (কী দিয়ে চাষ করা হয়? লাঙল দিয়ে)
করণ কারক চেনার সহজ উপায়
ক্রিয়াপদকে 'কী দিয়ে' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক
করণ কারকের প্রকারভেদ
উপকরণ করণ: যে যন্ত্র বা উপাদানের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
উদাহরণ: 'কলম দিয়ে' লেখে। (কলম হলো উপকরণ)
উপায় করণ: যে উপায়ে বা কৌশলে কাজটি করা হয়।
উদাহরণ: 'সাধনায়' সিদ্ধি লাভ হয়। (সাধনা হলো উপায়)
হেতুময় করণ: কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা নিমিত্ত বোঝালে।
উদাহরণ: 'শোকের' অশ্রু ফেলা অনর্থক।
সমধাতুজ করণ: বাক্যের ক্রিয়া এবং করণ একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হলে।
উদাহরণ: 'কাটারিতে' গাছ কাটছে (কাটা ধাতু)।
উপলক্ষ করণ: কোনো লক্ষণ বা চিহ্ন প্রকাশ পেলে।
উদাহরণ: 'হাসিতে' মুক্তা ঝরে।
সম্প্রদান কারক কাকে বলে?
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে (নিজের অধিকার চিরতরে বর্জন করে) কোনো কিছু দান, অর্চনা, সাহায্য বা অর্পণ করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে।
সম্প্রদান কারক উদাহরণ
সর্বশিষ্যে জ্ঞান দেন গুরুমহাশয় (সম্প্রদানে ৭মী) ।
অন্ধজনে দয়া কর (সম্প্রদানে ৭মী)।
তারা তীর্থে যাত্রা করলো (সম্প্রদানে ৭মী)
সম্প্রদান কারক চেনার সহজ উপায়
নিঃস্বার্থ দান: দানটি একেবারে ফেরত না পাওয়ার উদ্দেশ্যে হতে হবে। যেমন: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও (ভিক্ষা আর ফেরত নেওয়া হয় না)।
স্বত্ব বা মালিকানা ত্যাগ: যাকে দিচ্ছেন সে ঐ বস্তুর মালিক হয়ে যাবে। যেমন: অন্ধজনে দেহ আলো।
বিহনে বা নিমিত্তে (উদ্দেশ্য): কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বা কারণ বোঝালে। যেমন: বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল (জলের নিমিত্তে বা জলের জন্য যাওয়া)।
বিভক্তি: সম্প্রদান কারকে সাধারণত 'কে' বা 'রে' যুক্ত হয়ে চতুর্থী বিভক্তি হয়।
ব্যতিক্রম:টাকা বা ধার দেওয়া; কাউকে টাকা বা কোনো জিনিস ফেরত পাওয়ার শর্তে দিলে সেটি সম্প্রদান কারক না হয়ে কর্ম কারক হয়। যেমন: ধোবাকে কাপড় দাও (কাপড় ধুয়ে ফেরত দেওয়া হবে, তাই এটি কর্ম কারক)।
সম্প্রদান কারক প্রকারভেদ
বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারকটি মূলত ২ প্রকারে বিভক্ত যথা-
১. স্বত্বত্যাগে দান: কোনো বস্তুর উপর নিজের অধিকার চিরতরে ত্যাগ করে কাউকে কিছু দেওয়া।
উদাহরণ: অন্ধজনে দেহ আলো। (এখানে অন্ধ ব্যক্তিকে আর আলো ফেরত দেওয়া হবে না)
২. নিমিত্ত বা শর্তে দান: কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বা স্বার্থে কোনো কিছু দান করা।
উদাহরণ: দরিদ্রকে সাহায্য কর।
অপাদান কারক কাকে বলে?
যা থেকে কোনো কিছু গৃহীত, বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত, বা রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
অপাদান কারক উদাহরণ
বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। (পাতা গাছ থেকে আলাদা হচ্ছে)
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?
বিরত: পাপে বিরত হও
অপাদান কারক চেনার সহজ উপায়
অপাদান কারক চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ‘‘কী থেকে?’’ বা ‘‘কোথা থেকে?’’ প্রশ্ন করে উত্তর খোঁজা।
অপাদান কারক প্রকারভেদ
বাক্যের অর্থ ও ভাবের ওপর ভিত্তি করে অপাদান কারককে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
স্থানবাচক: কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিচ্যুত হওয়া বোঝায়। যেমন: ছাদ থেকে ঢিলটি পড়ল।
কালবাচক: কোনো নির্দিষ্ট সময় থেকে কাজ শুরু হওয়া বোঝায়। যেমন: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।
ভাববাচক: কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যখন অপাদান হিসেবে কাজ করে। যেমন: পাপে বিরত হও।
জাত বা উৎপন্ন: কোনো কিছু থেকে অন্য কিছুর সৃষ্টি হওয়া বোঝায়। যেমন: তিলে তৈল হয়, দুধ থেকে দই হয়
ভয়বাচক: কোনো কিছু থেকে ভয় পাওয়া বা ভীত হওয়া বোঝায়। যেমন: বাঘকে ভয় পায় না কে?
দূরীভূত বা রক্ষিত: কোনো কিছু থেকে দূরে চলে যাওয়া বা রক্ষা পাওয়া বোঝায়। যেমন: রোগ থেকে মুক্তি মেলে
অধিকরণ কারক কাকে বলে?
ক্রিয়া সম্পাদনের সময় (কাল) এবং স্থান বা আধারকে অধিকারণ কারক বলে। সহজ কথায়, ক্রিয়াটিকে ‘‘কোথায়’’ বা ‘‘কখন’’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই অধিকরণ কারক। সাধারণত এতে সপ্তমী (-এ, -য়, -তে) বিভক্তি যুক্ত হয়।
অধিকরণ কারক উদাহরণ
স্থান বা আধার: পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় মাছ আছে?)
সময় বা কাল: প্রভাতে সূর্য ওঠে। (কখন সূর্য ওঠে?)
বিষয়: তিনি সাহিত্যে দক্ষ। (কী বিষয়ে দক্ষ?
অধিকরণ কারক চেনার সহজ উপায়
ক্রিয়াকে ‘‘কোথায়’’ (স্থান), ‘‘কখন’’ (সময়) এবং ‘‘কী বিষয়ে’’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই অধিকরণ কারক। এছাড়া অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী (-এ, -য়, -তে) বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
১. স্থানাধিকরণ (স্থান): ক্রিয়াটি কোথায় ঘটছে।
প্রশ্ন: কোথায় মাছ আছে?
উত্তর: পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরে = অধিকরণ কারক) ।
২. কালাধিকরণ (সময়): ক্রিয়াটি কখন ঘটছে।
প্রশ্ন: কখন বৃষ্টি হয়?
উত্তর: বর্ষাকালে বৃষ্টি হয়। (বর্ষাকালে = অধিকরণ কারক) ।
৩. বিষয়াধিকরণ (বিষয়): কোন বিষয়ে দক্ষতা বা অভাব।
প্রশ্ন: কী বিষয়ে তার মাথা আছে?
উত্তর: ছেলেটির অঙ্কে মাথা আছে। (অঙ্কে = অধিকরণ কারক)
অধিকরণ কারক প্রকারভেদ (যদি থাকে)
মূলত অবস্থান বা আধারের ভিত্তিতে অধিকরণ কারক প্রধানত ৩ ভাগে বিভক্ত:
১. কালাধিকরণ:
ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা কালকে কালাধিকরণ বলে।
২. আধারাধিকরণ:
যে স্থানে বা আধারে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে আধারাধিকরণ বলে। স্থানভেদে এটি তিন প্রকার:
ঐকদেশিক: বিশাল স্থানের যেকোনো অংশে ক্রিয়া (যেমন- পুকুরে মাছ)।
অভিব্যাপক: সমগ্র আধার জুড়ে ক্রিয়া (যেমন- তিলে তৈল)।
বৈষয়িক: বিশেষ বিষয় বা জ্ঞানে দক্ষতা (যেমন- ব্যাকরণে ভালো)।
৩. ভাবাধিকরণ:
একটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যখন অন্য ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে । সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। (সূর্য ওঠা একটি ক্রিয়া, যা অন্ধকার দূর হওয়ার কারণ ।
সম্বন্ধ পদ কি?
বাক্যস্থিত যে নামপদ সরাসরি ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্ক না রেখে, অন্য কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সাথে সম্পর্ক বা মালিকানা নির্দেশ করে, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
সম্বন্ধ পদের উদাহরণ
রহিমের ভাই ফুটবল খেলছে।
আমার বাড়ি খুব কাছে
তার বইটি অনেক সুন্দর
আজকের দিনটি খুব ভালো।
গাছের পাতাগুলো সবুজ
সম্বন্ধ পদ কারক নয় কেন?
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সম্পর্কই হলো কারক। কিন্তু সম্বন্ধ পদে দুটি নামপদের (বিশেষ্য ও সর্বনাম) মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, যার সাথে ক্রিয়ার কোনো যোগ থাকে না। বাক্যের সাথে ক্রিয়াপদের কোনো সরাসরি সম্পর্ক না থাকায় সম্বন্ধ পদ কারক নয়।
বিভক্তি কত প্রকার ও কী কী?
বাংলা ব্যাকরণে বিভক্তি প্রধানত ৭ (সাত) প্রকার
প্রথমা (শূন্য) বিভক্তি
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি হলো সেই বিভক্তি, যেখানে শব্দের সাথে আপাতদৃষ্টিতে কোনো স্পষ্ট বা দৃশ্যমান বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত থাকে না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি
বাংলা ব্যাকরণে দ্বিতীয়া বিভক্তি হিসেবে প্রধানত কে, রে, এরে ব্যবহৃত হয়
তৃতীয়া বিভক্তি
বাংলা ব্যাকরণে সাধারণত করণ কারকে (দ্বারা, -দিয়া (-দিয়ে), -কর্তৃক, -এ, -তে) এবং অনুক্ত বা প্রযোজক কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ব্যবহৃত
চতুর্থী বিভক্তি
চতুর্থী বিভক্তি প্রকাশের জন্য প্রধানত ‘কে’ ও ‘রে’ ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া নিমিত্ত বা জন্য বোঝাতে অব্যয় পদও যুক্ত হয়।
পঞ্চমী বিভক্তি
বাংলা ব্যাকরণে ৫মী বিভক্তি (পঞ্চমী বিভক্তি) হলো সেইসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে কোনো কিছুর বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত বা তুলনামূলক অর্থ প্রকাশ করে ।
ষষ্ঠী বিভক্তি
বাংলা ব্যাকরণে সম্বন্ধ বা মালিকানা বোঝাতে শব্দের শেষে -র বা -এর যুক্ত হয়ে ষষ্ঠী বিভক্তি গঠিত হয় ।
সপ্তমী বিভক্তি
সপ্তমী বিভক্তি হলো বাক্যে স্থান, কাল, ভাব বা মাধ্যম বোঝাতে পদের শেষে যুক্ত হওয়া '-এ', '-য়', '-তে' চিহ্নসমূহ
কারক চেনার সহজ উপায়
বাংলা ব্যাকরণে কারক চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাক্যের ক্রিয়াপদকে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন করা। ক্রিয়াপদকে কে/কারা, কী/কাকে, কিসের দ্বারা, কোথা থেকে এবং কোথায় দিয়ে প্রশ্ন করলে ৬ ধরনের কারক সহজেই নির্ণয় করা যায় ।
নাম | প্রশ্ন করার নিয়ম | উদাহরণ |
১. কর্তৃকারক | ক্রিয়াপদকে ‘‘কে’’ বা ‘‘কারা’’ দিয়ে প্রশ্ন করলে | বাবা অফিসে গেছেন। (কে গেছেন? বাবা - কর্তৃকারক) |
২. কর্মকারক | ক্রিয়াপদকে ‘‘কী’’ বা ‘‘কাকে’’ দিয়ে প্রশ্ন করলে | আমি বই পড়ছি। (কী পড়ছি? বই - কর্মকারক) |
৩. করণ কারক | ক্রিয়াপদকে ‘‘কী দিয়ে’’ বা ‘‘কিসের দ্বারা’’ প্রশ্ন করলে | কলম দিয়ে লেখ। (কী দিয়ে? কলম - করণ কারক) |
৪. সম্প্রদান কারক | স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে কিছু দান করা হলে | অন্ধজনকে আলো দাও। (কাকে? অন্ধজনকে - সম্প্রদান কারক) |
৫. অপাদান কারক | যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, ভীত, বা উৎপন্ন হয় (কোথা থেকে?) | গাছ থেকে পাতা পড়ে। (কোথা থেকে? গাছ থেকে - অপাদান) |
৬. অধিকরণ কারক | ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, সময় বা বিষয় (কোথায়/কখন?) | পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে - অধিকরণ |
বিভক্তি চেনার সহজ উপায়
বাক্যের শব্দগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মূল শব্দের সাথে যে বর্ণ বা শব্দাংশ যুক্ত হয়, তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি মূলত ৭ প্রকার। সবচেয়ে সহজে শব্দ দেখে বিভক্তি ও কারক চেনার দারুণ সব কৌশল নিচে দেওয়া হলো
বিভক্তি | চেনার উপায় | উদাহরণ |
প্রথমা | ০’ (শূন্য) বা কোনো চিহ্ন থাকে না | পাখি আকাশে ওড়ে |
দ্বিতীয়া | কে, রে | বাবাকে ডাকো |
তৃতীয়া | দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক | কলমে লেখা যায় |
চতুর্থী | কে, রে (সম্প্রদান কারকের ক্ষেত্রে) | ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও |
পঞ্চমী | হতে, থেকে, চেয়ে | গাছ থেকে পাতা পড়ে |
ষষ্ঠী | র, এর | মামার বাড়ি |
সপ্তমী | এ, য়, তে | পুকুরে মাছ আছে |
কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের কিছু উদাহরণ
বাক্য বিশ্লেষণ – মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা ফুল তোলে? -> মেয়েরা (কর্তৃকারক ;প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)
বাক্য বিশ্লেষণ – নাসিমাকে ডাকো। (কাকে ডাকো? -> নাসিমাকে) কর্ম কারক (দ্বিতীয়া বিভক্তি)
বাক্য বিশ্লেষণ – কলমে ভালো লেখা হয়। (কীসের দ্বারা লেখা হয়? -> কলমে) করণ কারক সপ্তমী বিভক্তি।
পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:
পাগলে কি না বলে! ---কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
খাঁটি সোনায় খাঁদ থাকে না। ---কর্তৃকারকে সপ্তমী (বা এ) বিভক্তি
ডাক্তার ডাকো। ---কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
ফুল তুলো না।--- কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
এ কলমে ভালো লেখা হয়। ---- করণে সপ্তমী (বা এ) বিভক্তি
টাকায় কি না হয়! ----করণে সপ্তমী (বা য়) বিভক্তি
অন্ধজনে দেহ আলো। --- সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি
সমিতিতে চাঁদা দাও। ------ সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি
গাছ থেকে পাতা পড়ে। --- অপাদানে পঞ্চমী বিভক্তি
পাপে বিরত হও।----- অপাদানে সপ্তমী (বা এ) বিভক্তি
পুকুরে মাছ আছে। -----অধিকরণে সপ্তমী (বা এ) বিভক্তি
তিলে তৈল আছে। ----- অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি
চাকরির পরীক্ষায় আসা কারক ও বিভক্তি নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
চাকরির পরীক্ষায় বারবার আসা গুরুত্বপূর্ণ কারক ও বিভক্তি সংক্রান্ত বাছাই করা কিছু প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
১. ‘তিলে তেল আছে’ - বাক্যে ‘তিলে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি? [১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২)-২০২৪; ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল সমমান)-২০১৭]
অধিকরণে সপ্তমী
২. ‘পুকুরে মাছ আছে’ - এখানে ‘পুকুর’ কোন কারক? [১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়)-২০২৪; ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন সহকারী শিক্ষক (স্কুল সমমান)-২০১৬]
অধিকরণ কারক
৩. ‘পাপে বিরত থাকো’ - কোন কারকে কোন বিভক্তি? [১৭তম প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২২]
অপাদানে ৭মী
৬. ‘পড়ায় আমার মন বসে না’ - এখানে ‘পড়ায়’ কোন কারকে কোন বিভক্তি? [১৩তম প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৬]
অধিকরণ কারকে ৭মী
৭. ‘গাড়ি স্টেশন ছাড়ল’ - এখানে ‘স্টেশন’ কোন কারকের কোন বিভক্তি ?[১২তম প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৫; ১০ম প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৪; ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন সহকারী শিক্ষক (স্কুল সমমান-২)-২০১৫]
অপাদান কারকে শূন্য
৮. ‘পড়াশোনায় মন দাও’ বাক্যে ‘পড়াশোনায়’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি? [১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন সহকারী শিক্ষক (স্কুল পর্যায়)-২০২২]
অধিকরণে ৭মী
৯. কারক নির্ণয় করুন: লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।[১০ম প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৪]
অপাদান কারক
১০.আমি কি ডরাই সখী ভিখারি রাঘবে ?[১৪তম,১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধন২০১৭,২০১৬] ।
অপাদানে ৭মী
কারক ও বিভক্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের করা সাধারণ ভুল
বাংলা ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর মধ্যে কারক ও বিভক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চাকরির লিখিত, প্রিলিমিনারি, শিক্ষক নিয়োগ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কারক ও বিভক্তি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। বিষয়টি দেখতে ছোট মনে হলেও বাস্তবে এটি এমন একটি অংশ যেখানে পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুল করে। কারণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী সংজ্ঞা মুখস্থ করে, কিন্তু বাক্যে শব্দের ভূমিকা, কারকের প্রকৃতি, বিভক্তির ব্যবহার এবং অর্থগত পার্থক্য ভালোভাবে অনুধাবন করে না। ফলে সহজ প্রশ্নও জটিল মনে হয় এবং পরীক্ষার হলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
কারক ও বিভক্তি নিয়ে ভুল হওয়ার মূল কারণ হলো—শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বিভক্তির রূপ দেখে কারক নির্ধারণ করে, কিন্তু বাক্যে শব্দটির কাজ বা ভূমিকা বিচার করে না। অথচ কারক নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হলো বাক্যে পদটির ভূমিকা; আর বিভক্তি হলো সেই ভূমিকা প্রকাশের বাহ্যিক চিহ্ন। এই মৌলিক পার্থক্য না বুঝলে কর্মকারক, সম্প্রদান কারক, অধিকরণ কারক, অপাদান কারক, করণ কারক—সবই গুলিয়ে যায়।
পরীক্ষার আগে কারক ও বিভক্তি দ্রুত রিভিশন করার কৌশল
পরীক্ষার আগে কারক ও বিভক্তি দ্রুত রিভিশনের সবচেয়ে সেরা কৌশল হলো ক্রিয়াপদকে নির্দিষ্ট শব্দ দিয়ে প্রশ্ন করে কারক বের করা এবং ছন্দে ছন্দে বিভক্তিগুলো মনে রাখা।
কারক নির্ণয়ের সহজ প্রশ্ন-কৌশল
পরীক্ষার হলে সময় বাঁচাতে ক্রিয়াপদকে নিচের প্রশ্নগুলো করে সহজেই কারক নির্ণয় করা যায়:
কর্তৃকারক: ‘কে’ বা ‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করুন। (যেমন: কে ভাত খায়? আমি।)
কর্মকারক: ‘কী’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করুন। (যেমন: আমি কী খাই? ভাত।)
করণকারক: ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করুন। (যেমন: কলম দ্বারা লেখে।)
সম্প্রদান কারক: নিঃস্বার্থভাবে ‘কাকে’ দান করা হচ্ছে তা দেখুন। (যেমন: ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।)
অপাদান কারক: ‘কোথা থেকে’ বা ‘কী হতে’ (ভয়, পতন, বিরত থাকা) বুঝায়। (যেমন: গাছ থেকে পাতা পড়ে।)
অধিকরণ কারক: ‘কোথায়’ (স্থান) বা ‘কখন’ (সময়) প্রশ্ন করুন। (যেমন: প্রভাতে সূর্য ওঠে।)
১৯ তম NTRCA ডাইজেস্ট প্লাসের ১২০-১২৪ পৃষ্ঠা কমপ্লিট করলে আপনি যে কোনো চাকরির পরীক্ষায় আসা কারক ও বিভক্তি নির্ণয় খুব সহজেই উত্তর করতে পারবেন।
FAQ
প্রশ্ন: সম্বন্ধ পদ কি কারক?
উত্তর: না, সম্বন্ধ পদ কারক নয়। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ককে 'কারক' বলে। কিন্তু সম্বন্ধ পদের সাথে ক্রিয়াপদের কোনো সরাসরি বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকে না, এটি একটি বিশেষ্য বা সর্বনামের সাথে অন্য বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সম্পর্ক স্থাপন করে।
প্রশ্ন: কারক নিয়ে বিসিএস এ কত নম্বর থাকে
উত্তর: বিসিএস এ সাধারণত কারক থেকে সরাসরি ১ থেকে ২ নম্বর (১-২টি MCQ) এসে থাকে।
প্রশ্ন: কারক চেনার সহজ উপায় কি?
উত্তর: বাক্যের ক্রিয়াপদকে কে, কী, কাকে, কী দিয়ে, কোথা থেকে এবং কোথায়/কখন দ্বারা প্রশ্ন করে কারক চিনতে হয়।
প্রশ্ন: কারক এর ইংরেজি কি?
উত্তর: বাংলা ব্যাকরণে কারক (বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ক) ইংরেজি পরিভাষা হলো Case ।
প্রশ্ন: বিভক্তি এর ইংরেজি কি?
উত্তর: বিভক্তি এর ইংরেজি হলো division ।
প্রশ্ন: কারক শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: ‘কারক’ শব্দটির আক্ষরিক ও ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘‘যা ক্রিয়া সম্পাদন করে’’ বা ‘‘যে কোনো কাজ করে’’।
প্রশ্ন: কারক বাংলা ব্যাকরণের কোথায় আলোচিত হয়?
উত্তর: বাংলা ব্যাকরণে 'কারক' প্রধানত বাক্যতত্ত্বে (Syntax) আলোচিত হয়।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, বাংলা ব্যাকরণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষায় বহুল আলোচিত অধ্যায়গুলোর মধ্যে কারক ও বিভক্তি অন্যতম। চাকরির বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা—বিশেষ করে NTRCA, BCS, প্রাইমারি, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায়—এই টপিক থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই কারক ও বিভক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার, নির্ভুল ও গভীর ধারণা থাকা শুধু ভালো নম্বর পাওয়ার জন্যই নয়, বরং বাংলা ব্যাকরণে শক্ত ভিত্তি গড়ার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, বাংলা ব্যাকরণে ভালো করার চাবিকাঠি হলো নিয়ম বোঝা, উদাহরণ অনুশীলন করা এবং বারবার রিভিশন দেওয়া। আর সেই প্রস্তুতিকে আরও সহজ, গুছানো ও পরীক্ষামুখী করতে চাইলে ডাইজেস্ট প্লাস সিরিজের বাংলা অংশ আপনার জন্য হতে পারে দারুণ সহায়ক। বিশেষ করে ১৯তম NTRCA ডাইজেস্ট প্লাস-এ কারক ও বিভক্তি টপিকটি আরও টেকনিক, শর্টকাট ও পরীক্ষায় কমন উপযোগী বিশ্লেষণসহ সাজানো আছে—প্রয়োজনে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।
Comments