বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘সমাস’। স্কুল, কলেজ কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমাস থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। বিশেষ করে BCS, ব্যাংক, NTRCA, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই টপিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী সমাসকে কঠিন মনে করেন।
দুঃখজনকভাবে, সমাসের মূল ধারণা, ব্যাসবাক্য গঠন এবং বিভিন্ন প্রকারভেদের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে না বোঝার কারণে অনেকেই সহজ প্রশ্নেও ভুল উত্তর দিয়ে বসেন। ফলে যে টপিকটি সহজেই ভালো নম্বর পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারত, সেটিই হয়ে যায় দুর্বলতার অন্যতম কারণ।
তাই এই কন্টেন্টে আমরা সহজ ভাষায় তুলে ধরেছি - সমাস কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী, সমাস চেনার কার্যকর কৌশল, ব্যাসবাক্য তৈরির নির্ভুল নিয়ম, ধাপে ধাপে সমাস নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি এবং পরীক্ষায় দ্রুত সঠিক উত্তর করার স্মার্ট টেকনিক। পাশাপাশি সমাসে সবচেয়ে বেশি হওয়া সাধারণ ভুলগুলো কীভাবে এড়িয়ে চলবেন, সেটিও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে পুরো কন্টেন্টটি পড়েন, তাহলে সমাস আর জটিল কোনো বিষয় মনে হবে না। বরং এটি হয়ে উঠবে পরীক্ষায় নিশ্চিত নম্বর পাওয়ার একটি শক্তিশালী অধ্যায়।
সমাস কাকে বলে?
বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত "দুই বা ততোধিক পদ এক পদে মিলিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে । এটি একটি সংযোজন প্রক্রিয়া । সমাস শব্দের অর্থ মিলন, সংক্ষেপণ বা একাধিক পদের একপদীকরণ । সমাসের প্রধান কাজ হচ্ছে সংক্ষিপ্তকরণ। নতুন শব্দ গঠনের জন্য সমাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর মাধ্যমে ভাষাকে সংক্ষেপ, শ্রুতিমধুর ও নতুন শব্দ তৈরি করা হয় । যেমন: 'সিংহ চিহ্নিত আসন' = 'সিংহাসন' (এখানে কয়েকটি পদ মিলে একটি পদে পরিণত হয়েছে)।
সমাস’ শব্দের উৎপত্তি ও অর্থ
‘সমাস’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে- সম + √অস্ = সমাস। ‘সমাস’ শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
বাংলা ব্যাকরণে সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একাধিক পদের মিলন ঘটিয়ে নতুন শব্দ বা ‘সমাসবদ্ধ পদ’ তৈরি করা, যার মাধ্যমে ভাষাকে সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর ও অর্থপূর্ণ করা হয়। সমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
একাধিক পদের একপদীকরণ: সমাস সবসময় দুই বা ততোধিক পদের মিলনে একটিমাত্র পদ (সমস্তপদ) তৈরি করে। যেমন: 'সিংহ চিহ্নিত আসন' = 'সিংহাসন'।
নতুন শব্দ গঠন: এটি বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ বা পারিভাষিক শব্দ তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
অর্থসংগতি বা অর্থসম্বন্ধ: সমাসবদ্ধ পদগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থগত সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থহীন শব্দ মিলে সমাস হয় না।
ভাষার সংকোচন (সংক্ষেপণ): সমাসের মূল কাজ হলো বাক্যের আকার ছোট করা। যেমন: 'মহান আত্মা যার' – এটি না বলে 'মহাত্মা' বলা যায়।
বিভক্তি লোপ পাওয়া: সাধারণত ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত পদগুলোর বিভক্তি সমস্তপদে লোপ পায়। যেমন: 'রান্নার জন্য ঘর' = 'রান্নাঘর' (এখানে 'জন্য' বিভক্তি লোপ পেয়েছে)।
নতুন অর্থ প্রকাশ: অনেক সময় সমাসবদ্ধ পদটি পূর্বপদ বা পরপদের অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থ প্রকাশ করে (যেমন: বহুব্রীহি সমাস)।
সমস্তপদ ও ব্যাসবাক্য: সমাস প্রক্রিয়ায় যে নতুন পদ তৈরি হয়, তাকে সমস্তপদ বলে এবং যে বাক্যাংশের মাধ্যমে সমাসের অর্থ প্রকাশ করা হয়, তাকে ব্যাসবাক্য বলে।
সমাস ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব
সমাস বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদকে মিলিয়ে একটি নতুন ও সংক্ষিপ্ত পদ গঠন করে । এর প্রধান প্রয়োজনীয়তা হলো ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করা, শ্রুতিমধুরতা বৃদ্ধি করা এবং অল্প কথায় গভীর ভাব প্রকাশ করা। এটি শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে এবং সাহিত্যকে শৈল্পিক ও জোরালো করতে সাহায্য করে। বাংলা ব্যাকরণে সমাসের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
ভাষার সংক্ষিপ্তকরণ: বাক্যে শব্দের বাহুল্য কমিয়ে ভাষা সংক্ষেপ করা সমাসের প্রধান কাজ। এর ফলে বক্তব্য সহজ ও প্রাঞ্জল হয়।
নতুন শব্দ গঠন: সমাস প্রক্রিয়ায় অসংখ্য নতুন নতুন শব্দ তৈরি হয়, যা বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে।
শ্রতিমধুরতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি: সমাসবদ্ধ পদ ব্যবহারের ফলে ভাষা শ্রুতিমধুর, ছন্দময় ও সুন্দর হয়ে ওঠে।
অল্প কথায় গভীর ভাব প্রকাশ: বড় বাক্যাংশকে এক পদে পরিণত করে কম শব্দে অধিক অর্থ প্রকাশ করা যায়, যা গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয়।
ভাবের স্পষ্টতা: দীর্ঘ বর্ণনার চেয়ে সমাসবদ্ধ শব্দ অনেক সময় বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করে তোলে।
সাহিত্যিক ও আলংকারিক গুরুত্ব: সাহিত্য বা কাব্যে গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য সমাস অপরিহার্য।
সমাস গঠনের উপাদানসমূহ
সমাস গঠনের মূল উপাদান ৫টি। এগুলো হলো:
১। সমস্তপদ (সমাসবদ্ধ নতুন পদ),
২। ব্যাসবাক্য (সমস্তপদের বিস্তারিত রূপ),
৩। পূর্বপদ (ব্যাসবাক্যের প্রথম অংশ),
৪। পরপদ (বা উত্তরপদ - শেষের অংশ), এবং
৫। সমস্যমান পদ (যে পদগুলো মিলে সমাস হয়)
সমাস গঠনের উপাদানগুলো বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
সমস্তপদ (Compound Word): সমাস প্রক্রিয়ায় একাধিক পদ মিলে যে নতুন পদটি গঠিত হয়, তাকে সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ বলে। যেমন: 'সিংহাসন'।
ব্যাসবাক্য (Explanatory Phrase): সমস্তপদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে। যেমন: 'সিংহ চিহ্নিত আসন' = সিংহাসন।
সমস্যমান পদ (Constituent Words): যে পদগুলো মিলে সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে সমস্যমান পদ বলে। সিংহ, চিহ্নিত, আসন - এগুলো আলাদা সমস্যমান পদ।
পূর্বপদ (First Member): সমস্যমান পদের প্রথম অংশকে পূর্বপদ বলে। যেমন: 'সিংহ'।
পরপদ বা উত্তরপদ (Last Member): সমস্যমান পদের পরবর্তী অংশকে পরপদ বা উত্তরপদ বলে। যেমন: 'আসন'।
সমাস কত প্রকার ও কি কি?
সমাস প্রধানত ছয় প্রকার; তবে ৯ম-১০ম শ্রেণির নতুন বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী সমাস ৪ প্রকার। যথা: দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি। নিচে ৬ প্রকার সমাস তুলে ধরা হলো-
১। দ্বন্দ্ব সমাস
২। কর্মধারয় সমাস
৩। তৎপুরুষ সমাস
৪। বহুব্রীহি সমাস
৫। দ্বিগু সমাস
৬। অব্যয়ীভাব সমাস
১। দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব মানে জোড়া বা মিলন। উদাহরণ: হাট বাজার
ব্যাসবাক্য: হাট ও বাজার
দ্বন্দ্ব সমাস চেনার কৌশল:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ‘এবং’, ‘ও’ ও ‘আর’ - এই তিনটি অব্যয় পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গঠনপ্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্বন্দ্ব সমাস ৮ প্রকার। যথা:
সাধারণ দ্বন্দ্ব: তাল-তমাল = তাল ও তমাল , দোয়াত-কলম = দোয়াত ও কলম, হরিহর = হরি ও হর
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরি, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।
সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব:মা-বাপ = মা ও বাপ (আত্মীয়তা), ভাই-বোন = ভাই ও বোন (আত্মীয়তা), কাক-পরিজন = কাক ও পরিজন
সমার্থক দ্বন্দ্ব: হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, খাতা-পত্র ইত্যাদি।
বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব: দা-কুমড়া, অহি-নকুল ইত্যাদি।
একশেষ দ্বন্দ্ব: তোমরা, ধোঁয়াশা, কুশীলব, সত্যাসত্য, কথোপকথন ইত্যাদি।
বহুপদী দ্বন্দ্ব: সাহেব-বিবি-গোলাম, হাত-পাক-নাক-মুখ-চোখ ইত্যাদি।
অলুক দ্বন্দ্ব: দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।
২। কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে পরপদে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা।
উদাহরণ: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা।
কর্মধারয় সমাস চেনার কৌশল:
ব্যাসবাক্যে সাধারণত 'যে', 'যিনি', 'যাহা', 'সে', 'তিনি', 'তাহা' এবং তুলনা অর্থে 'ন্যায়', 'মতো' বা 'রূপ' ব্যবহৃত হয়। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কর্মধারয় সমাস প্রধানত ৪ প্রকার । এগুলো হলো:
১। মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায় (উধাও হয়ে যায়) এবং পূর্বপদ ও পরপদ মিলে একটি নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে । যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
২। উপমান কর্মধারয়: উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন কর্মধারয় সমাস যেখানে উপমান (যার সাথে তুলনা করা হয়) পদের সাথে সাধারণ গুণের (সাধারণ ধর্ম) সমাস হয়। যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
৩। উপমিত কর্মধারয়: সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের (যাকে তুলনা করা হয়) সাথে উপমানের (যার সাথে তুলনা করা হয়) যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
৪। রূপক কর্মধারয়: উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা বা কোনো পার্থক্য নেই - এমন কল্পনা করে যে সমাস হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।
৩। তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায়, তাকে তৎপুুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে র; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
উদাহরণ: যেমন- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন। এখানে দ্বিতীয় বিভক্তি ‘কে’ লোপ পেয়েছে বলে এর নাম ‘দ্বিতীয়া তৎপুরুষ’।
তৎপুরুষ সমাস চেনার কৌশল:
মূল কৌশল হলো - সমাসবদ্ধ পদটির (সমস্তপদ) ব্যাসবাক্য করার সময় মাঝখানের বিভক্তি (কে, রে, দ্বারা, দিয়া, হইতে, র, এর ইত্যাদি) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকার। যথা -
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ বা কর্মতৎপুরুষ: পূর্বপদে 'কে', 'রে' বিভক্তি লোপ পায়।
তৃতীয়া তৎপুরুষ: পূর্বপদে 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' বিভক্তি লোপ পায় ।
চতুর্থী তৎপুরুষ: পূর্বপদে 'কে', 'রে', 'জন্য', 'নিমিত্ত' বিভক্তি লোপ পায় ।
পঞ্চমী তৎপুরুষ: পূর্বপদে 'হতে', 'থেকে', 'চেয়ে' বিভক্তি লোপ পায় ।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ: পূর্বপদে 'র', 'এর' বিভক্তি লোপ পায়।
সপ্তমী তৎপুরুষ: পূর্বপদে 'এ', 'য়', 'তে' বিভক্তি লোপ পায়।
নঞ্ তৎপুরুষ: শব্দের শুরুতে অ, অন, না, নি, বে, নি ইত্যাদি উপসর্গ থাকে ।
উপপদ তৎপুরুষ: উপপদ তৎপুরুষ সমাস চেনার মূল উপায় হলো - সমাসবদ্ধ পদটি দিয়ে কোনো বিশেষ্য পদের কাজ বা বৈশিষ্ট্য বোঝাবে, যা ভাঙলে শেষে "যে", "যা", "যিনি" ইত্যাদি থাকে।
অলুক তৎপুরুষ: অলুক তৎপুরুষ সমাস চেনার মূল উপায় হলো - সমাসবদ্ধ পদে পূর্বপদের বিভক্তি (যেমন: -এ, -র, -এ) লোপ পায় না এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে। যেমনঃ কলের গান (কলের গান)।
৪। বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি। এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি’ কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।
উদাহরণ: নীলকণ্ঠ: নীল কণ্ঠ যার ।
বহুব্রীহি সমাস চেনার কৌশল:
বহুব্রীহি সমাস চেনার মূল কৌশল হলো - ব্যাসবাক্যের পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোনো অর্থ বা ব্যক্তিকে বোঝানো হয় । এই সমাসে সাধারণত ব্যাসবাক্যের শেষে 'যার', 'যাতে', 'যাদের' বা 'যে' ব্যবহৃত হয় ।
বহুব্রীহি সমাস ৮ প্রকার। যথা:
১। সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: মহাত্মা: মহান আত্মা যার
২। ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হলো সেই বহুব্রীহি সমাস, যার পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই বিশেষণ হয় না এবং সমাসবদ্ধ হয়ে তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে ।
৩। ব্যতিহার বহুব্রীহি: ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে (একই কাজ দুই পক্ষে বোঝালে) যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে । যেমন: কানাকানি: কানে কানে যে কথা
৪। মধ্যপদলোপী / উপমাত্মক বহুব্রীহি: মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ (মাঝের পদ) লোপ পায় বা উধাও হয়ে যায় ।যেমন: স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ
৫। নঞ্ বহুব্রীহি: নঞ বহুব্রীহি সমাস হলো এমন সমাস যেখানে 'না' বাচক অব্যয় (অ, আ, না, নি, বে, বি) পূর্বপদে বসে এবং সমস্ত পদটি অন্য পদের বিশেষণ হিসেবে কাজ করে । যেমনঃ অজ্ঞান = ন (নাই) জ্ঞান যার ।
৬। প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ বা বিশেষণ তৈরি করে, তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।যেমন: ঘরমুখো: ঘরের দিকে মুখ যার (মুখ+ও)
৭। সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: এমন একটি সমাস যেখানে পূর্বপদ একটি সংখ্যাবাচক শব্দ থাকে এবং সমস্তপদটি দ্বারা পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে ভিন্ন কোনো বিশেষ্য বা বিশেষণকে বোঝায়।যেমন: চৌচালা: চৌ (চার) চাল যে ঘরের (এটি একটি নির্দিষ্ট ঘরকে বোঝায়)।
৮। অলুক বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি সমস্তপদেও লোপ পায় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: গলায়-গামছা: গলায় গামছা যার ।
নিপাতনে সিদ্ধ (কোনো নিয়মের অধীনে নয়) বহুব্রীহি
উপরুক্ত বহুব্রীহি সমাস ব্যতীত বাংলা ব্যাকারণে নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের ব্যাবহার লক্ষ্য করা যায় । নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস মূলত কোনো নিয়ম অনুসরণ করে না।
নিচে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
দু দিকে অপ যার = দ্বীপ,
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ,
নরাকারের পশু যে = নরপশু,
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি
৫। দ্বিগু সমাস:
সমাহার বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস সাধিত হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। এ সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
উদাহরণ: যেমন- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা
দ্বিগু সমাস চেনার কৌশল:
দ্বিগু সমাস চেনার মূল কৌশল হলো সমাসবদ্ধ পদের প্রথম অংশটি সংখ্যাবাচক হবে এবং শেষ অংশটি বিশেষ্য পদ হবে, যা দ্বারা কোনো সমাহার, সমষ্টি বা মিলন বোঝাবে।
৬। অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে| অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়েরই অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়|
উদাহরণ: যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = অজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
অব্যয়ীভাব সমাস চেনার কৌশল: অব্যয়ীভাব সমাস চেনার সবচেয়ে সহজ কৌশল হলো শব্দের শুরুতে উপসর্গ (আ, উপ, অনু, পরি, প্রতি, হা, নি, প্র, বে, ফি) বা অব্যয় পদ দেখে চেনা, যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং সমস্তপদটি সাধারণত 'পর্যন্ত', 'সামীপ্য (কাছে)', 'অভাব', 'সাদৃশ্য', 'যোগ্যতা' বা 'বীপ্সা (পুনরাবৃত্তি)' অর্থ প্রকাশ করে ।
অন্যান্য সমাস
প্রথাগত ৪ বা ৬ প্রকার সমাসের বাইরে বাংলা ব্যাকারণে আরোকিছু বিশেষ বা ভিন্নধর্মী সমাস সমাস রয়েছে। নিচে এগুলো তুলে ধরা হলো:
১। নিত্য সমাস: যে সমাসে ব্যাসবাক্য হয় না কিংবা তা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
২। প্রাদি সমাস: যে সমাসে পূর্বপদে উপসর্গ (প্র, পরা, অনু, পরি ইত্যাদি) থাকে এবং পরপদে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্য থাকে, তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যেকোনো সমাস চেনার কিছু কৌশল ও টিপস
দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস ব্যাকের মাঝে এবং, ও, আর এই তিনটি শব্দ থাকে।
কর্মধারয় সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস ব্যাক্যে যে বা যিনি উল্লেখ থাকবে এবং সমস্তপদের দ্বারা তুলনা বোঝাবে।
দ্বিগু সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস বাক্যে সংখ্যা জাতীয় শব্দ থাকবে এবং ‘সমাহার’ শব্দটি থাকবে।
তৎপুরুষ সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস বাক্যে বিভক্তিসমূহ থাকবে।
অব্যয়ীভাব সমাসের ক্ষেত্রে পূর্বপদ হিসেবে অব্যয় থাকবে।
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্যে ‘যার’ শব্দটি থাকবে এবং সমস্যমান পদগুলোর নিজস্ব অর্থবাদে ভিন্নধর্মী অর্থে সমস্তপদ তৈরি হবে।
সমাস বনাম এক কথায় প্রকাশ এর পার্থক্য
সমাস | এক কথায় প্রকাশ |
১। ব্যাসবাক্যের প্রধান পদদুটি সমস্তপদে দৃশ্যমান থাকে। | ১। ব্যাকের সকল পদ সংকুচিত পদে দৃশ্যমান থাকে না। |
২। মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ। এখানে ব্যাসবাক্যটির প্রধান পদ দুটি হচ্ছে মহান ও পুরুষ। সমস্তপদে প্রধান পদ দুটি দৃশ্যমান আছে। তাই এটি সমাস। | ২। যা জলে ও স্থলে চরে = উভচর। এখানে বিস্তৃত বাক্যের প্রধান পদ হচ্ছে জল, স্থল, চরা। কিন্তু সংক্ষেপিত বা সংকুচিত পদে দৃশ্যমান কেবল চরা। তাই এটি এক কথায় প্রকাশ। |
৩। অলুক সমাস বাদে সকল সমাসই এককথায় প্রকাশের উদাহরণ। | ৩। এক কথায় প্রকাশ সমাসের উদাহরণ নয়। |
সমাস ও সন্ধি এর পার্থক্য
সমাস | সন্ধি |
১। সন্ধিতে ধ্বনি বা বর্ণের মিলন ঘটে। | ১। সমাসে পদের মিলন ঘটে। |
২। সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপন | ২। সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন |
৩।সন্ধি শব্দগঠনের কোন মৌলিক প্রক্রিয়া নয়। | ৩। সমাস শব্দ গঠনের মৌলিক প্রক্রিয়া। |
৪। উচ্চারণের সুবিধা ও ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি সন্ধির উদ্দেশ্য | ৪। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করা সমাসের উদ্দেশ্য। |
৫। সমাস শব্দতত্ত্বে আলোচিত হয়। | ৫। সন্ধি ধ্বনিতত্বে আলোচিত হয়। |
চাকরির পরীক্ষায় সমাস টপিকে ভালো করার কৌশল:
চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ব্যাকরণের 'সমাস' টপিকটি থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে এবং সঠিক কৌশল জানা থাকলে এখান থেকে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। নিচে সমাসে ভালো করার কিছু কার্যকর কৌশলগুলো আলোচনা করা হলো:
১. সমাসের প্রকারভেদ এবং মূল ধারণা পরিষ্কার করা:
প্রথাগত বনাম আধুনিক: প্রথাগত ব্যাকরণে সমাস ৬ প্রকার (দ্বন্দ্ব, দ্বিগু, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, অব্যয়ীভাব)। তবে আধুনিক ব্যাকরণে এটি ৪ প্রকার (দ্বন্দ, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি)। এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি কারণ প্রশ্ন উভয়ভাবেই হতে পারে।
পূর্বপদ ও পরপদ: কোন সমাসে কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায় তা মনে রাখা জরুরি। যেমন- দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদ, দ্বিগুতে পরপদ, বহুব্রীহিতে তৃতীয় পদ ইত্যাদি।
২. সমাস চেনার শর্টকাট টেকনিক:
দ্বন্দ্ব সমাস: 'ও', 'এবং', 'আর' থাকলে দ্বন্দ্ব সমাস। যেমন- মা ও বাবা = মা-বাবা।
দ্বিগু সমাস: প্রথমে সংখ্যাবাচক শব্দ এবং শেষে সমাহার/সমষ্টি থাকলে দ্বিগু সমাস। যেমন- ত্রিখণ্ড = তিন খণ্ডের সমাহার।
বহুব্রীহি সমাস: ব্যাসবাক্যের শেষে 'যাঁর', 'যাতে', 'যার' থাকে এবং কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে। যেমন- মহান আত্মা যার = মহাত্মা।
অব্যয়ীভাব সমাস: পূর্বপদে উপসর্গ (আ, উপ, নির, প্রতি, প্রতি, যথ, সু) থাকে। যেমন- প্র-বচন, উপ-কূল।
উপপদ তৎপুরুষ: এক কথায় প্রকাশ বা ব্যাসবাক্যে 'যে', 'যিনি', 'তা' থাকলে উপপদ তৎপুরুষ। যেমন- জলে চরে যা = জলচর।
অলোপ/অলুক সমাস: সমাসবদ্ধ হওয়ার পরেও যদি বিভক্তি চিহ্ন লোপ না পায়। যেমন- হাটে ও বাজারে = হাটেবাজারে।
৩. বারবার আসা সমাসগুলো আয়ত্ত করা
বিগত বছরের বিসিএস, ব্যাংক এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করুন। অনেক সমাসই বারবার পরীক্ষায় আসে।
রূপক কর্মধারয়, উপমান ও উপমিত কর্মধারয় - এই তিনটি বিষয় উদাহরণসহ ভালোভাবে বুঝে নিন।
৪. ব্যাসবাক্য তৈরির দক্ষতা
৫. নোট তৈরি এবং অনুশীলন
সমাস সংক্রান্ত কিছু সাধারণ ভুল ও সেগুলো এড়ানোর উপায়
বাংলা ব্যাকরণে সমাস একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কিছুটা জটিল অধ্যায়। সঠিক অনুশীলনের অভাবে অনেক সময় সমাস নির্ণয়ে সাধারণ কিছু ভুল হয়ে থাকে। নিচে সমাস সংক্রান্ত সাধারণ ভুল ও সেগুলো এড়ানোর উপায়গুলো আলোচনা করা হলো:
সমাস সংক্রান্ত সাধারণ ভুলসমূহ:
১। কর্মধারয় ও বহুব্রীহি সমাসের মধ্যে পার্থক্য (সবচেয়ে সাধারণ ভুল):
ভুল: "মহান যে রাজা = মহারাজ" (কর্মধারয়), কিন্তু "মহান আত্মা যার = মহাত্মা" (বহুব্রীহি)। অনেকে সমস্ত পদ দেখে সমাস নির্ধারণে ভুল করে।
ভুল: "নীল অম্বর যার = নীলাম্বর" (বহুব্রীহি) কে ভুল করে কর্মধারয় সমাস মনে করা।
২। উপমান ও উপমিত কর্মধারয়ের বিভ্রান্তি:
৩। দ্বিগু ও বহুব্রীহি সমাসের বিভ্রান্তি:
৪। ব্যাসবাক্য তৈরিতে ভুল:
৫। অলুক সমাস চিনতে ভুল:
৬। দ্বিগু সমাসে 'সমাহার' ভুলে যাওয়া:
ভুল এড়ানোর উপায় ও সহজ কৌশল:
১. অর্থের দিকে মনোযোগ দিন:
সমাসের ক্ষেত্রে অর্থের প্রাধান্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বন্দ্ব: উভয় পদ (মা-বাবা)।
তৎপুরুষ: পরপদ (রাজপুত্র)।
বহুব্রীহি: তৃতীয় কোনো অর্থ (নীলকণ্ঠ)।
২. 'যায়', 'যার', 'যে' এর পার্থক্য বুঝুন:
কর্মধারয়: যদি ব্যাসবাক্যে 'যে', 'যিনি', 'হয়' থাকে তবে কর্মধারয় (যেমন: যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব)।
বহুব্রীহি: যদি ব্যাসবাক্যে 'যার', 'যাতে' থাকে, তবে বহুব্রীহি (যেমন: দশ আনন যার = দশানন)।
৩. সংখ্যাবাচক শব্দে সতর্ক হোন:
৪. বিভক্তি লোপ না পেলে অলুক:
ব্যাসবাক্যে যদি পূর্বপদের বিভক্তি (এ, ও, র, এর) সমস্ত পদেও থাকে, তবে তা অলুক সমাস (যেমন: মাছের ভাজা = মাছভাজা > না, অলুক কর্মধারয় হবে না, এটি তৎপুরুষ)।
৫. ব্যাসবাক্যটি সঠিক কি না পরীক্ষা করুন:
সমস্ত পদটি যে অর্থ প্রকাশ করছে, আপনার ব্যাসবাক্যটি ঠিক সেই অর্থ প্রকাশ করছে কি না তা যাচাই করুন।
চাকরির পরীক্ষার জন্য সমাস ও বাংলা ব্যাকরণ অধ্যয়নের উৎস
চাকরির পরীক্ষার (বিসিএস, ব্যাংক, সরকারি নিয়োগ) জন্য সমাস ও বাংলা ব্যাকরণের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মূল বইয়ের ওপর জোর দেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। নিচে পর্যায়ক্রমে সেরা উৎসগুলো দেওয়া হলো:
১. মৌলিক বা মূল বই (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ (পুরানো বোর্ড বই - ১৯৭৬ বা এর কাছাকাছি সংস্করণ): এটি বাংলা ব্যাকরণের 'বাইবেল' হিসেবে পরিচিত। সমাস, কারক, বিভক্তি ও সন্ধি এখান থেকে হুবহু কমন পড়ে।
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নতুন কারিকুলাম): আধুনিক ব্যাকরণ বোঝার জন্য এটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান: সঠিক বানানের জন্য।
২. বিগত বছরের প্রশ্নের সমাধান:
৩. সহায়ক বই:
সমাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: ছাত্রজীবন কোন সমাস?
উত্তর: ছাত্রজীবন শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
প্রশ্ন: উপকূল কোন সমাস?
উত্তর: উপকূল শব্দটি অব্যয়ীভাব সমাস। 'উপকূল' এর ব্যাসবাক্য হলো "কূলের সমীপে।
প্রশ্ন: ইত্যাদি কোন সমাস?
উত্তর: ইত্যাদি শব্দটি মূলত পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। “ইত্যাদি' শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো "ইতি হতে আদি"।
প্রশ্ন: পঙ্কজ কোন সমাস?
উত্তর: ‘পঙ্কজ’ শব্দটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস। ‘পঙ্কজ’ এর ব্যাসবাক্য হলো “পঙ্কে জন্মে যা”।
প্রশ্ন: নিরামিষ কোন সমাস?
উত্তর: ‘নিরামিষ’ শব্দটি বহুব্রীহি সমাস। ‘নিরামিষ’ এর ব্যাসবাক্য হলো “নিঃ আমিষ যাতে”।
প্রশ্ন: মধ্যাহ্ন কোন সমাস?
উত্তর: ‘মধ্যাহ্ন’ শব্দটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। ‘মধ্যাহ্ন’ এর ব্যাসবাক্য হলো “অহ্নের (দিনের) মধ্যভাগ”।
প্রশ্ন: পৌরসভা কোন সমাস?
উত্তর: ‘পৌরসভা’ শব্দটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। ‘পৌরসভা’ এর ব্যাসবাক্য হলো “পৌরদের বা পুরের সভা”।
প্রশ্ন: বেআইনি কোন সমাস?
উত্তর: ‘বেআইনি’ শব্দটি নঞ্ তৎপুরুষ সমাস। ‘বেআইনি’ এর ব্যাসবাক্য হলো “নয় আইনি” বা “আইনি নয়”।
Comments