বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director (AD) পদ দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যাংকিং ক্যারিয়ার। আপনি যদি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাজ করে দেশের আর্থিক নীতি, ব্যাংকিং খাতের তদারকি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে এই পদটি হতে পারে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।
জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডের এই পদে যোগদান করে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে ঊর্ধ্বতন পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদ শুধুমাত্র একটি সরকারি চাকরি নয়; এটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ও তদারকি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়।
অনেক প্রার্থী একটি সাধারণ ভুল করেন - বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি নিয়োগ পরীক্ষাকে অন্যান্য সরকারি বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার মতো ভেবে একই ধরনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু বাস্তবে এই পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, প্রতিযোগিতা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি অনেকটাই ভিন্ন। এখানে শুধু মুখস্থনির্ভর জ্ঞান নয়, বরং বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি, গণিত, ইংরেজি দক্ষতা, সমসাময়িক অর্থনীতি, ব্যাংকিং জ্ঞান, লেখার দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব - সবকিছুর সমন্বিত মূল্যায়ন করা হয়। তাই পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন-
বাংলাদেশ ব্যাংক AD পরীক্ষার সম্পূর্ণ সিলেবাস ও মানবণ্টন।
আবেদনের যোগ্যতা, প্রস্তুতির কার্যকর রুটিন।
প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা পর্যন্ত ধাপভিত্তিক কৌশল।
সেরা বই ও রিসোর্স।
এবং সফল হওয়ার জন্য বাস্তবসম্মত প্রস্তুতির রোডম্যাপ।
আপনি যদি প্রথমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন কিংবা পূর্বে অংশগ্রহণ করে আরও ভালো ফল করতে চান, তাহলে এই গাইডটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পদের খুঁটিনাটি তথ্য:
বাংলাদেশ ব্যাংক কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক হলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। দেশের মুদ্রা ব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর প্রধান দায়িত্ব।
কেন বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ ব্যাংক থেকে আলাদা?
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ, আর সাধারণ ব্যাংক তার অধীনে পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক নোট ইস্যু করতে পারে, কিন্তু কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক তা পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, আর সাধারণ ব্যাংক শুধু ব্যাংকিং সেবা দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের ব্যাংক, কারণ অন্যান্য ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে হিসাব রাখে এবং প্রয়োজনে এখান থেকে আর্থিক সহায়তা পায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ব্যাংকার, আর সাধারণ ব্যাংক মূলত জনগণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর সাধারণ ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য গ্রাহক সেবা প্রদান ও মুনাফা অর্জন।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এটি মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ, ব্যাংক তদারকি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে সাধারণ ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান এবং ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে। এই মৌলিক পার্থক্যই বাংলাদেশ ব্যাংককে সাধারণ ব্যাংক থেকে স্বতন্ত্র ও বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছে ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি পদের কাজ কী?
বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director (AD) পদটি একটি নির্বাহী পর্যায়ের কর্মকর্তা পদ। সহকারী পরিচালকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগে নীতি বাস্তবায়ন, তদারকি, গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সহকারী পরিচালকের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে -
দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের তদারকি করা
মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করা
আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করা
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা
ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা
নোট ইস্যু ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করা
সরকারের আর্থিক কার্যক্রম ও কোষাগার ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করা
কর্মক্ষেত্র: সহকারী পরিচালকরা প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয়/আঞ্চলিক কার্যালয়ে নিয়োগ পেতে পারেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, টাকশাল, বিশ্বব্যাংক ও IMF এর মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি পদের গ্রেড, বেতন স্কেল ও অতিরিক্ত সুবিধা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদটি জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৯ম গ্রেডের একটি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদ। মর্যাদা, আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা, দ্রুত ক্যারিয়ার অগ্রগতি এবং দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগের কারণে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যাংকিং চাকরি।
মূল বেতন: (২২,০০০–৫৩,০৬০) টাকা।
মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া (৪৫–৫০%), চিকিৎসা, ইন্টারনেট, মোবাইল এবং লাঞ্চ ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হয়।
শিক্ষাজীবনের ভালো ফলাফল এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার ফলে একই গ্রেডের অনেক সরকারি চাকরির তুলনায় আর্থিকভাবে এগিয়ে থাকা সম্ভব।
অতিরিক্ত সুবিধাসমূহ:
বছরে ৫–৬টি Incentive, ঈদ বোনাস এবং JAIBB ও AIBB ব্যাংকিং ডিপ্লোমা সম্পন্ন করলে অতিরিক্ত বোনাস।
চাকরির ৩–৫ বছর পূর্ণ হলে সহজ শর্তে গৃহ নির্মাণ ঋণ (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) এবং গাড়ি ঋণ (প্রায় ৩০ লাখ টাকা) গ্রহণের সুযোগ।
কো-অপারেটিভ সুবিধা, স্বল্পসুদে ঋণ এবং শেয়ার ডিভিডেন্ড সুবিধা।
ছুটির সুবিধা: নৈমিত্তিক ছুটি (২০ দিন), অর্জিত ছুটি (বছরে ৩৩–৩৫ দিন), অর্ধগড় বেতনে ছুটি (বছরে ৩০ দিন) এবং ৩ বছর অন্তর ১৫ দিনের বিনোদন ছুটি।
চিকিৎসা সুবিধা: কর্মকর্তা, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান এবং নীতিমালা অনুযায়ী পিতা-মাতার চিকিৎসা ব্যয় বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করে।
দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ:BB Financed Scholarship-এর মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি পদের পদোন্নতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদে যোগদানের পর মেধা, কর্মদক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে উচ্চপদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পদ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ প্রশাসনিক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।
পদসোপান:
নির্বাহী পরিচালক
↑
মহাব্যবস্থাপক
↑
উপ-মহাব্যবস্থাপক
↑
যুগ্ম পরিচালক
↑
উপ-পরিচালক
↑
সহকারী পরিচালক (৯ম গ্রেড)
বাংলাদেশ ব্যাংকে পদোন্নতি তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক। সাধারণভাবে কর্মদক্ষতা ও নীতিমালার ভিত্তিতে ৪–৫ বছরের মধ্যে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগ পরীক্ষার যোগ্যতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদে আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সসীমা পূরণ করতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
ক. স্বীকৃত বোর্ড হতে এইচ.এস.সি/সমমান পরীক্ষা পাসের পর স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ০৪ বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রী অথবা স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতকসহ যে কোন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী। স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর সম্মিলিত মেয়াদ ন্যূনতম ০৪ বছর হতে হবে।
খ. মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পরীক্ষাসমূহে ন্যূনতম ০২টিতে প্রথম বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জি.পি.এ থাকতে হবে।
গ. শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়ে ৩য় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জি.পি.এ গ্রহণযোগ্য হবে না।
ঘ. 'O' Level এবং 'A' Level এর ক্ষেত্রে এদেশীয় সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট (Equivalence certificate) বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রাপ্ত ডিগ্রীর ক্ষেত্রে দেশীয় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়/বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন/উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত সমমান সার্টিফিকেট (Equivalence certificate) অনুযায়ী ডিগ্রী ও ফলাফলের তথ্য প্রদান করতে হবে।
বয়স সীমা: সকল প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ২১ হতে ৩২ বছর। প্রার্থীর বয়স কম বেশি হলে আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের নিয়োগ পরীক্ষা মূলত ৩টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।
১ম ধাপ: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (MCQ) - ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
২য় ধাপ: লিখিত পরীক্ষা - প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
৩য় ধাপ: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের তিনটি ধাপ অতিক্রম করে প্যানেলভুক্ত চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপ হলো ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষা। এই পরীক্ষার জন্য ১ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকে। নিচের সারণিতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন দেওয়া হলো।
Preliminary Test (MCQ Type):
Sl.No. | Contents | Marks |
1. | English - Grammar & Language | 20 |
2. | Bangla - Grammar & Language | 20 |
3. | General Mathematics | 20 |
4. | Financial and Banking knowledge | 10 |
5. | Analytical Skill | 20 |
6. | Basic Knowledge on ICT | 10 |
Total Marks | 100 |
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১.০০ নম্বর প্রদান করা হয় এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন:
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি (Assistant Director) নিয়োগ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপ হলো ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। এই পরীক্ষার জন্য ২ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকে। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর ভাষাগত দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, গণিত, ব্যাংকিং জ্ঞান এবং সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে ধারণা মূল্যায়ন করা হয়।
নিম্নে চার্টের মাধ্যমে বিষয়টা তুলে ধরা হলো-
Written Test:
Sl.No. | Contents | Marks |
1. | Focus Writing in English (On Recent Global/ Bangladesh Issues) | 30 |
2. | Focus Writing in Bangla (On Recent Global/ Bangladesh Issues) | 30 |
3. | General Knowledge | 10 |
4. | Mathematics (SSC Level) | 30 |
5. | Bangla to English Translation | 20 |
6. | Analytical Reasoning, Critical Thinking and Argumentative Writing | 40 |
7. | বাংলা ব্যাকরণ (বানান/বানানের নিয়ম, বাক্যশুদ্ধি, প্রবাদ-প্রবচনের নিহিতার্থ প্রকাশ, কারক, সমাস, সন্ধি বিচ্ছেদ, এক কথায় প্রকাশ, প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ) | 10 |
8. | English Language Proficiency: (Sentence structure, subject-verb agreement, finiteand non-fine verb, transformation, speech, clause & phrase, group verb, idioms, right forms of verb) | 20 |
9. | Financial and Banking knowledge | 10 |
Total Marks | 200 |
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি:
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপ হলো ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষা। পরীক্ষার জন্য ১ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়। তাই শুধুমাত্র বেশি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, নির্ভুলভাবে উত্তর দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রতিটি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক পরিকল্পিতভাবে পড়তে হবে। নিচে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বাংলা প্রস্তুতি:
বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director (AD) নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো ফল করতে বাংলা বিষয়ে শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রার্থী ইংরেজি ও গণিতে বেশি গুরুত্ব দিলেও, বাংলা অংশে ভালো নম্বরই অনেক সময় মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকার পার্থক্য তৈরি করে।
বাংলা বিষয়টি শুধু প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই নয়, লিখিত পরীক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুরু থেকেই ব্যাকরণ, সাহিত্য এবং নিয়মিত প্রশ্ন অনুশীলনের মাধ্যমে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বাংলা ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director (AD) নিয়োগ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পর্যায়ে বাংলা অংশে সাধারণত ব্যাকরণভিত্তিক প্রশ্নের আধিক্য দেখা যায়। তাই বাংলা ব্যাকরণের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা এই পরীক্ষায় ভালো করার অন্যতম শর্ত। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু নির্দিষ্ট টপিক থেকে প্রায় প্রতিবছরই প্রশ্ন আসে।
বাংলা ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
ভাষা, ধ্বনি ও বর্ণ, সন্ধি, সমাস, উপসর্গ ও প্রত্যয়, কারক ও বিভক্তি, পদপ্রকরণ, বাক্যশুদ্ধি, বানানশুদ্ধি, এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ, পারিভাষিক শব্দ, বিরামচিহ্ন, লিঙ্গ, বচন, কাল, বাচ্য, প্রকৃতি ও প্রত্যয় এবং শব্দ ও বাক্য রূপান্তর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এসব টপিকের মধ্যে সন্ধি, সমাস, উপসর্গ-প্রত্যয়, বাক্যশুদ্ধি, বানানশুদ্ধি, এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, সমার্থক শব্দ এবং সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ থেকে প্রায় প্রতি বছরই প্রশ্ন আসে। এছাড়া ভাষা ও ব্যাকরণের মৌলিক ধারণা, ণত্ব-ষত্ব বিধান এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান সম্পর্কেও ভালো ধারণা থাকা জরুরি। আপনাকে শুধুমাত্র নিয়ম মুখস্থ করলেই হবে না; প্রতিটি বিষয়ের ওপর পর্যাপ্ত MCQ অনুশীলন করতে হবে এবং বিগত বছরের বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল প্রশ্ন সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ
বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director (AD) নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা সাহিত্য অংশ থেকে তুলনামূলক কম প্রশ্ন এলেও, এই অংশটি অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম এবং সাহিত্য-সংক্রান্ত মৌলিক তথ্য থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই ব্যাকরণের পাশাপাশি সাহিত্য অংশেও সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
বাংলা সাহিত্য প্রস্তুতি:
চর্যাপদ এবং প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের মৌলিক ধারণা আয়ত্ত করতে হবে। মধ্যযুগের সাহিত্য, বিশেষ করে বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য এবং মুসলিম সাহিত্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।
আধুনিক বাংলা সাহিত্য প্রস্তুতি:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্দীন, বেগম রোকেয়া, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন এবং হুমায়ূন আহমেদ-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, উপাধি ও অবদান সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
অন্যান্য:
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি, বিখ্যাত উক্তি, সাহিত্য পত্রিকা, বাংলা ভাষা আন্দোলন, একুশে বইমেলা, বাংলা একাডেমি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার সম্পর্কেও প্রশ্ন আসতে পারে। বিশেষভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও কাজী নজরুল ইসলাম-এর রচনা, কাব্য, গান, উপন্যাস, নাটক এবং বিভিন্ন উপাধি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন দেখা যায়।
বাংলা সাহিত্যে ভালো করতে চাইলে শুধু তথ্য মুখস্থ না করে সাহিত্যিক ও তাঁদের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে পড়া উচিত। পাশাপাশি বিগত বছরের বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) এবং অন্যান্য ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার সাহিত্যভিত্তিক প্রশ্ন অনুশীলন করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। নিয়মিত রিভিশন ও অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য অংশে সহজেই ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বাংলা বিষয়ের জন্য বুকলিস্ট
বাংলাদেশ ব্যাংক Assistant Director (AD) নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা অংশে ভালো করতে হলে অপ্রয়োজনীয় অনেক বই না পড়ে কয়েকটি নির্ভরযোগ্য বই বারবার পড়াই বেশি কার্যকর। বিশেষ করে ব্যাকরণ, সাহিত্য এবং পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিলে অল্প সময়েই ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। নিচে বাংলা বিষয়ের জন্য প্রস্তাবিত বুকলিস্ট দেওয়া হলো-
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) – বাংলা ব্যাকরণের মৌলিক ধারণা ও নিয়ম আয়ত্ত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা -ড. সৌমিত্র শেখর -বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য প্রস্তুতির জন্য অন্যতম জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য বই।
শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - মোহসীনা নাজিলা - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য দ্রুত রিভিশন এবং চাকরির পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য উপযোগী।
MP3 George's বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ড. মো. শাহনেওয়াজ হোসাইন জর্জ – ব্যাকরণ ও সাহিত্য অনুশীলনের জন্য সহায়ক একটি বই।
NTRCA ডাইজেস্ট প্লাস ব্যাকরণ পার্ট - ব্যাকরণভিত্তিক MCQ অনুশীলন এবং নিয়মিত প্র্যাকটিসের জন্য উপযোগী।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নব্যাংক- প্রশ্নের ধরন, গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং পরীক্ষার প্রবণতা বোঝার জন্য অবশ্যই সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বাংলা বিষয়ে ভালো করার টিপস:
আপনি যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এডি(AD)পদকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তাহলে শুরু থেকেই নিজেকে হতে হবে ব্যতিক্রমী। কারণ এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য প্রতি বছর লাখো চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতা করেন। তাই শুধুমাত্র গতানুগতিক পড়াশোনা নয়, বরং বিশ্লেষণধর্মী, ধারণাভিত্তিক এবং স্মার্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করাই হবে সফলতার মূল চাবিকাঠি।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় থেকেই যদি প্রতিটি বিষয় ডিটেইলস ও বিশ্লেষণমূলকভাবে পড়েন, তাহলে সেই প্রস্তুতিই আপনাকে লিখিত পরীক্ষায় অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রাখবে। কারণ শক্তিশালী ভিত্তি ছাড়া ভালো লিখিত পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়।
সফল প্রস্তুতির জন্য অবশ্যই গুরুত্ব দিন-
• সিলেবাসভিত্তিক ও টপিকভিত্তিক পরিকল্পিত অধ্যয়নে।
• বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ ও নিয়মিত সমাধানে।
• নিয়মিত মডেল টেস্ট ও স্ব-মূল্যায়নে।
• দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে ধারাবাহিক উন্নয়নে।
মনে রাখবেন, সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমই বাংলাদেশ ব্যাংকের AD পদে সফলতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি। আজ থেকেই পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি শুরু করুন, নিজেকে প্রতিযোগীদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখুন এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যান।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ইংরেজি প্রস্তুতি:
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগ পরীক্ষায় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট ইংরেজি এই অংশে খারাপ করার জন্য অনেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় । চলুন জেনে নি,আপনার স্মার্ট প্রস্তুতিতে ইংরেজি কোন কোন টপিকের উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া বাঞ্চণীয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে পরীক্ষায় ইংরেজির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের Assistant Director (AD) নিয়োগ পরীক্ষায় ইংরেজি অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধু প্রিলিমিনারিতে ভালো স্কোর নিশ্চিত করে না, লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভাতেও প্রার্থীর ভাষাগত দক্ষতার প্রতিফলন ঘটায় । তাই ইংরেজি প্রস্তুতি হওয়া উচিত ব্যাকরণ, শব্দভাণ্ডার, রিডিং স্কিল এবং লেখার দক্ষতার সমন্বয়ে ।
Grammar অংশ
Parts of Speech, Tense, Subject-Verb Agreement, Right Form of Verbs, Voice Change, Narration, Transformation of Sentences, Article, Preposition, Conjunction, Clause and Phrase, Modifier, Parallelism এবং Conditional Sentences থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে । এসব টপিকের ওপর শক্ত ভিত্তি তৈরি করা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অপরিহার্য
Vocabulary অংশ
Synonym, Antonym, Idioms & Phrases, Phrasal Verbs, One-word Substitution, Analogy, Prefix-Suffix এবং Word Meaning in Context থেকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি Error Detection, Sentence Correction, Fill in the Blanks, Cloze Test, Sentence Completion এবংRearrangement-এর মতো প্রশ্নের মাধ্যমে প্রার্থীর ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করা হয়। তাই নিয়মিত ইংরেজি সংবাদপত্র, বিশেষ The Daily Star বা The Financial Express পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শব্দভাণ্ডার ও বাক্যগঠন উভয়ই উন্নত হয়।
লিখিত পরীক্ষা
সাধারণত Essay বা Focus Writing, Bangla to English Translation, Reading Comprehension এবং কখনো কখনো Precis Writing বা সংক্ষিপ্তসার লেখার প্রশ্ন আসে। প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সাধারণত বাংলাদেশ অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত, মুদ্রানীতি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল ব্যাংকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন কিংবা সমসাময়িক বৈশ্বিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে হয়। তাই শুধু ব্যাকরণ জানলেই হবে না; পরিষ্কার, যুক্তিপূর্ণ ও প্রাঞ্জল ইংরেজিতে নিজের ভাব প্রকাশের দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের AD পরীক্ষার ইংরেজি অংশে ভালো করতে হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় Grammar অনুশীলন, নতুন Vocabulary শেখা, একটি Reading Comprehension সমাধান এবং সপ্তাহে অন্তত একটি Essay ও একটি Translation লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন এবং IBA-ধাঁচের ইংরেজি প্রশ্ন নিয়মিত অনুশীলন করলে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি হবে এবং ভালো ফল করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে ।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ইংরেজি বিষয়ের জন্য বুকলিস্ট
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পদের প্রস্তুতিতে নিম্নোক্ত পুস্তিকাগুলো অনুসরণ করতে পারেন ।
Grammar
Classroom MCQ English Grammar -M.I. Prodhan Mukul Sir
Cliffs TOEFL
English for Competitive Exams – Md. Fazlul Hoque
Practical English Usage – Michael Swan (রেফারেন্স হিসেবে)
High School English Grammar & Composition – Wren & Martin (বেসিক শক্ত করতে)
Vocabulary
Word Smart (Vol. 1 & 2) – Princeton Review
Word Power Made Easy – Norman Lewis
Saifur's Vocabulary (দ্রুত রিভিশনের জন্য)
Reading Comprehension
Literature
Classroom MCQ English Grammar -M.I. Prodhan Mukul Sir (এই বইটিতে Literature পার্ট খুব সহজ ও কৌশল আকারে দেওয়া আছে)
A Handbook on English Literature – Sharif Hossain
A Gateway to English Literature – Shamim Ahmed
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ইংরেজি বিষয়ে ভালো করার টিপস:
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি প্রস্তুতিতে ইংরেজিতে অবশ্যই আপনার দক্ষ হয়ে উঠতে হবে । আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ইংরেজি বিষয়ে ভালো করার জন্য নিচে কিছু টিপস আশাকরি আপনি দারুন উপকৃত হবেন ।
১. সিলেবাস না জেনে বই পড়া শুরু করবেন না ।
যা পরীক্ষায় আসে, সেটাই পড়ুন। অপ্রয়োজনীয় পড়া শুধু সময় নষ্ট করে ।
২. Grammar-কে আপনার "স্কোরিং জোন" বানান ।
Tense, Voice, Narration, Article, Preposition, Modifier ও Subject-Verb Agreement আয়ত্তে থাকলে অনেক প্রশ্ন সহজ হয়ে যাবে।
৩. প্রতিদিন ২৫টি নতুন শব্দ শিখুন, ৫০টি পুরোনো শব্দ রিভিশন করুন
Vocabulary-তে ধারাবাহিকতা একদিনে হাজার শব্দ মুখস্থ করার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ।
৪. Previous Question হলো আপনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শিক্ষক
গত ১০-১৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন। একই ধরনের প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে ।
৫. প্রতিদিন অন্তত একটি Editorial পড়ুন।
Reading, Vocabulary, Sentence Structure এবং Writing একসঙ্গে চারটি দক্ষতা বাড়বে ।
৬. ইংরেজিতে ভাবার অভ্যাস করুন।
ছোট ছোট বিষয়ও মনে মনে ইংরেজিতে বলুন। ভাষার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হবে ।
৭. প্রতিদিন ৩০ মিনিট শুধু Error Detection অনুশীলন করুন।
এটি এমন একটি অংশ, যেখানে নিয়ম জানলে দ্রুত নম্বর তোলা যায় ।
৮. Translation-কে অবহেলা করবেন না।
বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি থেকে বাংলা দুই দিকেই নিয়মিত অনুশীলন করুন ।
৯. উত্তর শুধু পড়বেন না, লিখবেনও ।
Precis, Paragraph, Essay ও Focus Writing হাতে লিখে অনুশীলন করলে রিটেনে বড় সুবিধা পাবেন।
১০. Mock Test দিন, তারপর নিজের ভুলের বিচারক হোন ।
ভুলগুলো লিখে রাখুন। একই ভুল দ্বিতীয়বার না করার লক্ষ্য নিন ।
১১. প্রতিটি নতুন শব্দ দিয়ে একটি বাক্য লিখুন।
শব্দ মুখস্থ নয়, ব্যবহারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে মনে রাখুন ।
১২. পরীক্ষার সময় ঘড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করুন।
জ্ঞান থাকলেই হবে না, নির্ধারিত সময়ে উত্তর শেষ করার অভ্যাসও থাকতে হবে।
১৩. একসঙ্গে ৮ ঘণ্টা নয়, প্রতিদিন নিয়মিত ৩ ঘণ্টা।
ধারাবাহিক প্রস্তুতিই সফলতার আসল চাবিকাঠি।
১৪. নিজের দুর্বলতাকে এড়িয়ে যাবেন না।
যে বিষয়টি সবচেয়ে কঠিন লাগে, সেটিই আগে আয়ত্ত করুন। সেখানেই সবচেয়ে বেশি উন্নতির সুযোগ থাকে।
১৫. মনে রাখুন-বাংলাদেশ ব্যাংক AD পরীক্ষায় ইংরেজি শুধু একটি বিষয় নয়, এটি আপনার মেধা, বিশ্লেষণক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা। তাই প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি করুন; বড় সাফল্য সেই ছোট অভ্যাসগুলোর ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে ।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে গণিত প্রস্তুতি:
বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক (AD) নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি হলো গণিত অংশ। প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতে ভালো করার জন্য গণিতে মজবুত ভিত্তি থাকা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ বাংকের গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন সাধারণত অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় কিছুটা জটিল ও বিশ্লেষণধর্মী হয়ে থাকে। নিচে এডি নিয়োগের গণিত প্রস্তুতির একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকরী গাইডলাইন দেওয়া হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে গণিতের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষায় সাধারণত ২০ টি গাণিতিক সমস্যা থাকে এবং প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণ ইংরেজিতে হয়ে থাকে। বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু নির্দিষ্ট অধ্যায় থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন আসে।
পাটিগণিত (Arithmetic):
পাটিগণিত অংশের জন্য যে টপিকসগুলো অবশ্যই দেখতে হবে তার মধ্যে রয়েছে-
শতকরা ও লাভ-ক্ষতি
সরল ও চক্র বৃদ্ধি মুনাফা
অনুপাত ও সমানুপাত
সময়, দূরত্ব ও গতিবেগ
বীজগণিত (Algebra):
সমীকরণ ও অসমতা
ধারা ও লগারিদম
সেট ও ফাংশন
সূচক ও উৎপাদক
জ্যামিতি ও অন্যান্য (Geometry & Others):
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে গণিত বিষয়ের জন্য বুকলিস্ট ও রিসোর্স
বিগত সালের প্রশ্ন: প্রস্তুতির শুরুতে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক এডির বিগত ১০ বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। তাহলে প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
স্ট্যান্ডার্ড বই: ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ ও উচ্চতর গণিত বই, Quantitative Aptitude (R.S. Aggarwal), Khairul's Bank Math. এই বইগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে গণিত বিষয়ের জন্য বুকলিস্ট:
বিগত সালের প্রশ্ন: প্রস্তুতির শুরুতে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক এডির বিগত ১০ বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। তাহলে প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
স্ট্যান্ডার্ড বই: ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ ও উচ্চতর গণিত বই, Quantitative Aptitude (R.S. Aggarwal), Khairul's Bank Math. এই বইগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি গণিত বিষয়ে ভালো করার টিপস:
ইংরেজি পরিভাষা শেখা: যেহেতু প্রশ্ন ইংরেজিতে হয়, তাই গণিতের বিভিন্ন পদের নাম (যেমন: Prime Number, Inversely Proportional, Numerator, Denominator, etc.) ভালোভাবে জানতে হবে।
নিয়মিত চর্চা: প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ টি করে গণিত সমাধান করার অভ্যাস করতে হবে।
হাতে-কলমে হিসাব: ক্যালকুলেটর ছাড়া দ্রুত বড় গুণ, ভাগ বা বর্গমূল করার কৌশল (Mental Math) রপ্ত করতে হবে।
স্মার্ট এলিমিনেশন: MCQ তে অপশন টেস্ট বা ব্যাক-সলুউশন করে ৫-১০ সেকেন্ডে উত্তর বের করার অভ্যাস করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা (Analytical Ability) প্রস্তুতি
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি (Assistant Director) নিয়োগ পরীক্ষায় Analytical Ability অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এই অংশ থেকে ২০ নম্বর এবং লিখিত পরীক্ষায় Analytical Reasoning, Critical Thinking & Argumentative Writing থেকে ৪০ নম্বর থাকে। তাই এই অংশে ভালো করতে পারলে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে থাকা সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা অংশে সাধারণ মুখস্থনির্ভর প্রশ্নের পরিবর্তে যুক্তি, সমস্যা সমাধান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে নিয়মিত অনুশীলন এবং ধারণাভিত্তিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পরীক্ষায় সাধারণত নিচের টপিকগুলো থেকে প্রশ্ন আসে -
লজিক্যালরিজনিং:ক্রিটিক্যালরিজনিং, স্টেটমেন্টওআর্গুমেন্ট।
ধাঁধাঁওবিন্যাস:সিটিংঅ্যারেঞ্জমেন্ট (গোলটেবিলবাসারিবদ্ধবসা) এবংব্লাডরিলেশন (রক্তেরসম্পর্ক)।
প্যাটার্নওসিরিজ:সংখ্যাবাঅক্ষরেরজটিলসিরিজএবংপাজলসল্ভকরা।
তথ্যবিশ্লেষণ:ডাটাসাফিশিয়েন্সিওডাটাইন্টারপ্রিটেশন (চার্টবাগ্রাফবিশ্লেষণ)।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতার জন্য প্রস্তাবিত বুকলিস্ট
বাংলাদেশ ব্যাংকের Analytical Ability অংশে ভালো করতে আন্তর্জাতিক মানের বই অনুসরণ করা সবচেয়ে কার্যকর। এই অংশের প্রশ্নগুলো অনেক ক্ষেত্রে GRE এবং GMAT-ধাঁচের যুক্তিভিত্তিক প্রশ্নের সঙ্গে মিল রয়েছে।
প্রস্তাবিত বই ও রিসোর্স:
Barron's GRE (12th/13th/17th Edition)
GMAT Official Guide (OG)
Manhattan Prep GMAT Strategy Guides
Nova's GRE Math Bible
Eminent Analytical Ability
Professor's Bank Job Analytical Ability
Saifur's Analytical Ability
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতায় ভালো করার টিপস
বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা এমন একটি বিষয়, যেখানে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব। তাই প্রস্তুতির সময় নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করুন -
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বিগত ১০ বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন।
প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০টি Reasoning বা Puzzle নির্দিষ্ট সময় ধরে সমাধান করার অভ্যাস করুন।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর বের করার যুক্তি বোঝার চেষ্টা করুন; শুধু উত্তর মুখস্থ করবেন না।
যে ধরনের প্রশ্নে বারবার ভুল হয়, সেগুলো আলাদা করে নোট করে নিয়মিত রিভিশন দিন।
Data Interpretation এবং Data Sufficiency অংশে ক্যালকুলেশন স্পিড বাড়ানোর জন্য নিয়মিত অনুশীলন করুন।
Mock Test-এর মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করুন এবং প্রতিটি পরীক্ষার পর নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করুন।
লিখিত পরীক্ষার জন্য Critical Thinking এবং Argumentative Writing-এর চর্চাও প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির পাশাপাশি শুরু করুন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও আইসিটি প্রস্তুতি:
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এডি নিয়োগের সিলেবাসে সাধারণ জ্ঞান অংশের পরিবর্তে ১০ নম্বরের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়টি সংযোজন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে অবশ্যই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও আইসিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর উঠানোর কৌশল আয়ত্ত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং এর গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষা যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে হয়, তাই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর গভীর দখল থাকতে হবে।
সেন্ট্রাল ব্যাংকিং ও মুদ্রানীতি (Monetary Policy): বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী, মুদ্রানীতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বিস্তর ধারণা থাকতে হবে।
ব্যাংকিং ইন্সট্রুমেন্ট ও রেগুলেশন: SLR (Statutory Liquid Ratio), CRR (Cash Reserve Ratio), NPL (Non-Performing Loan), ব্যাসেল (Basel I,II,III) নীতিমালা।
ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট ও টার্মস : মানি মার্কেট, ক্যাপিটাল মার্কেট (ডিএসই, সিএসই), বন্ড মার্কেট, Bankruptcy, Call Money গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল ও ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং: এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS), সবুজ ব্যাংকিং (Green Banking) ।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে আইসিটি এর গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলদেশ ব্যাংক এডি পরীক্ষায় আইসিটি থেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় Basic Knowledge on ICT এর উপর ১০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা হয়ে থাকে । কিন্তু প্রায়ঃশ চাকরির প্রার্থীদের এই অংশে দারূণ ভীতি লক্ষ্য করা যায় পরীক্ষা উপযোগী টপিক বিশ্লেষণের অভাবে অর্থাৎ কোন টপিকগুলো থেকে বেশি প্রশ্ন আসে কোন টপিকগুলো অপ্রয়োজনীয় বা বাদ দিতে হবে । এই অংশে আমারা বিগত বছরের আইসিটি টপিক বিশ্লেষণ করে বার বার আসা টপিকগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম । চলুন জেনে নি আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ সম্পর্কে –
১. কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা
কম্পিউটারের প্রকারভেদ, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস এবং মেমোরি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন ।
২. অপারেটিং সিস্টেম (Operating System)
Windows, Linux, File Management, Booting Process এবং অপারেটিং সিস্টেমের মৌলিক কাজগুলো ভালোভাবে জানুন ।
৩. MS Office
MS Word, Excel, PowerPoint, কিবোর্ড শর্টকাট এবং অফিস অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলো অনুশীলন করুন ।
৪. ইন্টারনেট ও ওয়েব প্রযুক্তি
HTTP, HTTPS, URL, Domain, IP Address, DNS, Web Browser এবং Search Engine সম্পর্কে ধারণা রাখুন ।
৫. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
LAN, MAN, WAN, Router, Switch, Modem, TCP/IP এবং Network Topology-এর মৌলিক বিষয়গুলো পড়ুন ।
৬. সাইবার নিরাপত্তা (Cyber Security)
Virus, Malware, Trojan, Phishing, Ransomware, Firewall, Antivirus এবং তথ্য নিরাপত্তার মৌলিক ধারণা আয়ত্ত করুন ।
৭. ডাটাবেজ (Database)
DBMS, RDBMS, SQL, Primary Key, Foreign Key এবং Database Management-এর বেসিক বিষয়গুলো শিখুন ।
৮. সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল লজিক
Binary, Decimal, Octal, Hexadecimal, Logic Gate, Boolean Algebra এবং Truth Table অনুশীলন করুন।
৯. ক্লাউড কম্পিউটিং ও AI
Cloud Computing, Artificial Intelligence (AI), Machine Learning এবং Internet of Things (IoT)-এর মৌলিক ধারণা রাখুন ।
১০. ব্যাংকিং প্রযুক্তি
Core Banking System (CBS), ATM, POS, Internet Banking, Mobile Banking, SWIFT, RTGS, BEFTN, NPSB এবং QR Payment সম্পর্কে জানুন ।
১১. ই-গভর্নেন্স ও স্মার্ট বাংলাদেশ
ডিজিটাল সেবা, Smart Bangladesh, ই-গভর্নেন্স এবং সরকারি ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা রাখুন ।
১২. আইসিটি আইন ও সাম্প্রতিক প্রযুক্তি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, সাইবার অপরাধ, তথ্য সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়মিত অনুসরণ করুন ।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ের জন্য বুকলিস্ট:
নিচে বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পদের লক্ষ্যে বাজারের যেকোনো একটি ভালোমানের বই অনুসরণ করলেই হবে । চলুন জেনে নি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বুক লিস্ট সম্পর্কে -
Financial Management - I. M. Pandey (Financial Management-এর জন্য)
Financial Markets and Institutions - Frederic S. Mishkin (Financial Market ও Banking System)
Commercial Bank Management - Peter S. Rose & Sylvia C. Hudgins (Commercial Banking)
Money, Banking and Financial Markets - Frederic S. Mishkin (Central Banking ও Monetary Policy)
বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন ও মুদ্রানীতি (Monetary Policy Statement) (সাম্প্রতিক ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক বিষয়)
বাংলাদেশ ব্যাংক AD, Senior Officer ও Officer-এর বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক (প্রশ্নের ধরন বোঝা ও অনুশীলনের জন্য)
পরামর্শ: সময় কম থাকলে I. M. Pandey, Mishkin-এর প্রাসঙ্গিক অধ্যায় এবং বিগত বছরের প্রশ্ন নিয়মিত অনুশীলন করাই যথেষ্ট কার্যকর প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে আইসিটি বিষয়ের জন্য বুকলিস্ট:
বাংলাদেশ ব্যাংক AD পরীক্ষায় আইসিটি অংশে ভালো করতে HSC ICT বই + Easy Computer + বিগত বছরের প্রশ্ন এই তিনটিতেই বেশি গুরুত্ব দিন । পাশাপাশি নিম্নোক্ত বইগুলো দেখতে পারেন -
Easy Computer - Professor's Publication (বেসিক আইসিটি প্রস্তুতির জন্য)
ICT (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) -একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই (মৌলিক ধারণা পরিষ্কার করতে)
Oracle ICT (MCQ অনুশীলন ও গুরুত্বপূর্ণ টপিক রিভিশনের জন্য)
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও আইসিটি বিষয়ে ভালো করার টিপস
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পদে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও আইসিটি পদে ভালো করতে প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত পড়াশোনা করুন। ধারাবাহিক প্রস্তুতিই বাংলাদেশ ব্যাংক AD পরীক্ষায় ভালো করার অন্যতম চাবিকাঠি।
১. সিলেবাস আগে ভালোভাবে বুঝুন
কোন কোন টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, তা আগে চিহ্নিত করুন।
২. মৌলিক ধারণা (Basic Concepts) শক্ত করুন
শুধু মুখস্থ নয়, প্রতিটি বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার রাখুন।
৩. স্ট্যান্ডার্ড বই অনুসরণ করুন
অল্প কয়েকটি ভালো বই বারবার পড়ুন, অনেক বই একসঙ্গে পড়বেন না।
৪. বিগত বছরের ব্যাংক জব প্রশ্ন সমাধান করুন
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের পূর্ববর্তী প্রশ্ন নিয়মিত অনুশীলন করুন।
৫. প্রতিদিন আইসিটি অনুশীলন করুন
কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, ডাটাবেজ ও সাইবার সিকিউরিটি থেকে প্রতিদিন কিছু সময় দিন।
৬. ব্যাংকিং টার্ম ভালোভাবে শিখুন
CRR, SLR, Repo Rate, SWIFT, RTGS, BEFTN, NPSB-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্ম আয়ত্ত করুন।
৭. সাম্প্রতিক ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক ঘটনা পড়ুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার, মুদ্রানীতি এবং অর্থনৈতিক সংবাদ অনুসরণ করুন।
৮. সূত্র ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের শর্ট নোট তৈরি করুন
রিভিশনের জন্য নিজের সংক্ষিপ্ত নোট রাখুন।
৯. নিয়মিত MCQ অনুশীলন করুন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রশ্ন সমাধানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
১০. সময় ধরে মডেল টেস্ট দিন
পরীক্ষার পরিবেশে অনুশীলন করলে গতি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
১১. ভুলগুলোর বিশ্লেষণ করুন
কোন প্রশ্ন কেন ভুল হয়েছে, তা বুঝে পুনরায় পড়ুন।
১২. আইসিটির সাম্প্রতিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানুন
AI, Cloud Computing, Cyber Security ও Digital Banking-এর মৌলিক ধারণা রাখুন।
১৩. নিয়মিত রিভিশন করুন
নতুন পড়ার পাশাপাশি পুরোনো বিষয়গুলোও বারবার ঝালিয়ে নিন।
১৪. অপ্রয়োজনীয় তথ্য এড়িয়ে চলুন
শুধু পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতেই বেশি সময় দিন।
৯০ দিন / ৩ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক AD প্রস্তুতির রুটিন ও কৌশল:
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি প্রিপারেশনের ক্ষেত্রে আপনার নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নাই। রেগুলার রুটিন মাফিক পড়াশুনা করলে আপনি নিশ্চিত সফল হবেন। আপনার পড়াশুনা শতভাগ সম্পন্ন করতে আমরা ৯০ দিনের একটু প্রস্তুতি কৌশল রেডি করেছি আশা করি এটি আপনার জন্য বেশ সহায়ক হবে -
দিন | বিষয় | সময় |
১ - ৩০ দিন
| গণিত | ২ ঘন্টা |
বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা | ১ ঘন্টা |
ইংরেজি | ২ ঘন্টা |
বাংলা | ১ ঘন্টা |
ব্যাংকিং ও আর্থিক জ্ঞান | ৪৫ মিনিট |
আইসিটি | ৪৫ মিনিট |
৩১ – ৬০ দিন
| গণিত | ১ ঘন্টা |
বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা | ১ ঘন্টা |
ইংরেজি | ১ ঘন্টা |
বাংলা | ১ ঘন্টা |
ব্যাংকিং ও আর্থিক জ্ঞান | ৩০ মিনিট |
আইসিটি | ৩০ মিনিট |
প্রতিদিন ৫০ – ১০০টি MCQ সমাধান প্রতি সপ্তাহে ১টি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট (১০০ নম্বর) ভুলগুলো বিশ্লেষণ | প্রতি মক টেস্টে ৬০+ মিনিট |
৬১ – ৮০ দিন
| গণিত | ১ ঘন্টা |
বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা | ১ ঘন্টা |
ইংরেজি | ১ ঘন্টা |
বাংলা | ১ ঘন্টা |
ব্যাংকিং ও আর্থিক জ্ঞান | ৩০ মিনিট |
আইসিটি |
৩০ মিনিট |
| পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট (সপ্তাহে ২ – ৩ দিন) মক টেস্টের ভুল বিশ্লেষণ দুর্বল বিষয়ের রিভিশন |
প্রতি মক টেস্টে ৬০+ মিনিট |
৮১ – ৯০ দিন | নতুন কিছু নয় প্রতিদিন ২টি পূর্ণাঙ্গ MCQ মডেল টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, ব্যাকরণ, ভোকাবুলারি ও ব্যাংকিং তথ্য পুনরাবৃত্তি |
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (AD) পদের লিখিত ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় সফল হতে হলে অফিসিয়াল সিলেবাসের প্রতিটি অংশকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন,চলুন জেনে নিন।
Written Test:
Sl.No. | Contents | Marks |
1. | Focus Writing in English (On Recent Global/ Bangladesh Issues) | 30 |
2. | Focus Writing in Bangla (On Recent Global/ Bangladesh Issues) | 30 |
3. | General Knowledge | 10 |
4. | Mathematics (SSC Level) | 30 |
5. | Bangla to English Translation | 20 |
6. | Analytical Reasoning, Critical Thinking and Argumentative Writing | 40 |
7. | বাংলা ব্যাকরণ (বানান/বানানের নিয়ম, বাক্যশুদ্ধি, প্রবাদ-প্রবচনের নিহিতার্থ প্রকাশ, কারক, সমাস, সন্ধি বিচ্ছেদ, এক কথায় প্রকাশ, প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ) | 10 |
8. | English Language Proficiency: (Sentence structure, subject-verb agreement, finiteand non-fine verb, transformation, speech, clause & phrase, group verb, idioms, right forms of verb) | 20 |
9. | Financial and Banking knowledge | 10 |
Total Marks | 200 |
১. ফোকাস রাইটিং (বাংলা ও ইংরেজি - ৬০ নম্বর)
সিলেবাসের প্রথম ও দ্বিতীয় ক্রমিকে বাংলা ও ইংরেজি ফোকাস রাইটিংয়ের জন্য ৩০ করে মোট ৬০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে । এখানে সমসাময়িক জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।
প্রস্তুতি: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ক্যাশলেস সোসাইটি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মতো বিষয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করুন । তথ্য-উপাত্তের (Data) সত্যতা বজায় রাখতে বাজেট ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে নোট তৈরি করে রাখুন । বিভিন্ন থিংক-ট্যাংক (যেমন: CPD- Centre for Policy Dialogue, PRI- Policy Research Institute of Bangladesh) এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় কলাম পড়া এক্ষেত্রে সহায়ক হবে ।
২. অ্যানালিটিক্যাল রিজনিং, ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও আর্গুমেন্টেটিভ রাইটিং (৪০ নম্বর)
৬ নম্বর ক্রমিকে থাকা এই অংশটি পরীক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তফাত গড়ে দেওয়ার মতো একটি ক্ষেত্র ।এটি মূলত পরীক্ষার্থীর যৌক্তিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা যাচাই করে।
৩. গণিত (৩০ নম্বর)
সিলেবাসের ৪ নম্বর ক্রমিকে এসএসসি (SSC) লেভেলের গণিতের জন্য ৩০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে । এ অংশের সুবিধা হলো, উত্তর নির্ভুল হলে এখানে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়, যা মেরিট লিস্টে এগিয়ে রাখে।
প্রস্তুতি: পাটিগণিতের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেমন-শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সরল ও চক্রবৃদ্ধি সুদ, অনুপাত এবং বীজগণিতের মৌলিক সমস্যার সমাধানগুলো নিয়মিত চর্চা করুন। বিগত বছরগুলোর ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার গণিতগুলো সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
৪. ভাষা ও ব্যাকরণ (৫০ নম্বর)
এখানে বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদে ২০ নম্বর, বাংলা ব্যাকরণে ১০ নম্বর এবং ইংরেজি ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়েন্সিতে ২০ নম্বর রয়েছে।
• বাংলা ব্যাকরণ: সিলেবাস অনুযায়ী বাক্যশুদ্ধি, বানানের নিয়ম, প্রবাদ-প্রবচনের নিহিতার্থ, কারক, সমাস, সন্ধি বিচ্ছেদ এবং এক কথায় প্রকাশের মতো বিষয়গুলোতে পূর্ণ নম্বর তোলার চেষ্টা করা উচিত।
• ইংরেজি ও অনুবাদ: Sentence structure, subject-verb agreement, finite & non-finite verb, clause & phrase এবং idioms-এর মতো ব্যাকরণগত নিয়মগুলো চর্চা করুন। বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবানুবাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি অনুচ্ছেদ অনুবাদ করুন।
৫. সাধারণ জ্ঞান এবং ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং জ্ঞান (২০ নম্বর)
এখানে সাধারণ জ্ঞানে ১০ নম্বর এবং ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং জ্ঞানে ১০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
• প্রস্তুতি: বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী, মুদ্রানীতি, বাজেট এবং ব্যাংকিং খাতের মৌলিক পরিভাষাগুলো (Repo, SLR, Inflation, Monetary Policy) ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রধান ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে নিয়মিত সজাগ থাকুন।
সময় ব্যবস্থাপনা ও চূড়ান্ত পরামর্শ
২০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় ২ ঘণ্টার মধ্যে সবগুলো প্রশ্নের মানসম্মত উত্তর দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক পরীক্ষার্থী জানা উত্তরও সময়ের অভাবে লিখে শেষ করতে পারেন না তা। ই বাড়িতে ঘড়ি ধরে মক টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সিলেবাসের প্রতিটি অংশকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পড়াশোনা করলে পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদের ভাইভা পরীক্ষার জন্য একটি সুসংহত, বাস্তবধর্মী ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
১. মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস অর্জন
ভাইভায় অবতীর্ণ হওয়ার আগে ইতিবাচক মনোভাব রাখা অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, আপনি ইতিমধ্যে একটি কঠিন লিখিত পরীক্ষা সফলভাবে অতিক্রম করে এসেছেন। নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে শান্ত ও স্থির মনে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিন।
২. ব্যক্তিগত পরিচিতি ও ব্যাকগ্রাউন্ড
সংক্ষিপ্ত আত্মপরিচয়: বাংলা ও ইংরেজিতে অনূর্ধ্ব ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে নিজের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং লক্ষ্য তুলে ধরার মতো একটি চমৎকার আত্মপরিচয় (Self-introduction) প্রস্তুত করুন।
নিজ জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: নিজের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং আপনার নিজ জেলা ও উপজেলার নামকরণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন।
৩. বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকিং খাত
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খুঁটিনাটি: বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস, কার্যাবলি, বর্তমান গভর্নরের নাম এবং সাম্প্রতিক সময়ের বড় অর্থনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ জেনে রাখুন।
আর্থিক পরিভাষা ও পলিসি: মুদ্রানীতি (Monetary Policy), বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি (Inflation) নিয়ন্ত্রণের উপায়, সুদের হার (Repo, Reverse Repo), খেলাপি ঋণ (NPL) এবং ব্যাসেল-৩ (Basel III) এর মতো মৌলিক ব্যাংকিং টার্মগুলোর তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিক বুঝুন।
৪. সমসাময়িক অর্থনীতি ও নিয়মিত সংবাদপাঠ
প্রতিদিন অন্তত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে ব্যবসা ও অর্থনীতি পাতাটিতে গভীর নজর দিন। জাতীয় বাজেট, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি, আইএমএফ (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ এবং ভূ-রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রভাব সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকুন।
৫. যোগাযোগ দক্ষতা ও আঞ্চলিকতা পরিহার
কথার মধ্যে জড়তা কাটানো এবং প্রমিত উচ্চারণে কথা বলার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো আঞ্চলিক টান থাকলে তা সচেতনভাবে পরিহার করার চেষ্টা করুন। স্পষ্ট উচ্চারণ ও মার্জিত শব্দচয়ন আপনার যোগাযোগ দক্ষতাকে বোর্ডের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরবে।
৬. পেশাদার আচরণ, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও সততা
বোর্ডে প্রবেশ ও ভঙ্গি: অনুমতি নিয়ে ভাইভা কক্ষে প্রবেশ করুন এবং সবাইকে নম্রভাবে অভিবাদন (সালাম/আদাব) জানান। সোজা হয়ে বসুন, প্রশ্নকর্তার চোখে চোখ রেখে (Eye contact) কথা বলুন এবং মুখে মৃদু হাসি বজায় রাখুন।
সততা ও বিনয়: কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে ভুল উত্তর দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেয়ে বিনীতভাবে "এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার জানা নেই, স্যার" বলা অনেক বেশি পেশাদারি আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
৭. মক ইন্টারভিউ ও অনুশীলন
প্রস্তুতিকে আরও সাবলীল করতে আয়নার সামনে নিজে নিজে কথা বলার অভ্যাস করুন। এছাড়া বন্ধু বা অভিজ্ঞ কারও সাথে বাস্তবসম্মত পরিবেশে মক ভাইভা (Mock Viva) দিলে ভয় ও জড়তা দূর হবে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।
ভাইভা পরীক্ষার নমুনা:
১. আপনার নামের অর্থ কী? নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড ও পরিবার সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু বলুন।
২. আপনি তো [স্নাতক বা স্নাতকোত্তর বিষয়]-এ পড়াশোনা করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী কাজে আপনার এই জ্ঞান কীভাবে ভূমিকা রাখবে?
৩. আপনার জেলার নাম। এই জেলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং দেশের অর্থনীতিতে এর অবদান কী?
৪. স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কোনো থিসিস বা টার্ম পেপার করেছিলেন? সেটির মূল ফাইন্ডিংস বা সিদ্ধান্ত কী ছিল?
৫. বাংলাদেশ ব্যাংককে কেন ‘ব্যাংকারদের ব্যাংক’ এবং ‘ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল’ বলা হয়?
৬. বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর এবং প্রথম গভর্নরের নাম বলুন। প্রথম গভর্নর কে ছিলেন এবং তাঁর সময়ে আমাদের মুদ্রার নাম কী ছিল?
৭. বর্তমানে বাংলাদেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা কয়টি? তফসিলি আর অতফসিলি ব্যাংকের মূল তফাতটা কোথায়?
৮. আইপিডিসি (IPDC) বা আইডিএলসি (IDLC)-কে আমরা ব্যাংক বলি না কেন? বাণিজ্যিক ব্যাংক আর লিজিং কোম্পানির (NBFI) কাজের ফারাক কী?
৯. ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা হলো ‘খেলাপি ঋণ’ বা NPL; আপনি এডি হিসেবে জয়েন করলে এই খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করবেন?
১০. বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য কী ছিল? সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কীভাবে বাজারে টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে মূল্যস্ফীতি কমায়?
১১. বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার নেয়, তখন বাজারে তার কী প্রভাব পড়ে?
১২. সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো রেট (Repo Rate) বাড়িয়েছে। এই রেপো রেট বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ডিপিএস বা লোনের সুদের হারে কী প্রভাব পড়েছে?
১৩. আমাদের দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ব্যাসেল-৩ (Basel III) অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধন (Capital Adequacy) সংরক্ষণ করতে পারছে না কেন?
১৪. ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ‘ক্রলিং পেগ’ (Crawling Peg) পদ্ধতি চালু করেছে, এটি আসলে কীভাবে কাজ করে?
১৫. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ‘গ্রস’ (Gross) এবং আইএমএফ-এর ‘বিপিএম৬’ (BPM6) হিসাবের মধ্যে পার্থক্য কী? আমাদের রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা কেমন?
১৬. বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, অর্থনীতিতে
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগে সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন:
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি (Assistant Director) নিয়োগ পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। অনেক প্রার্থী ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সঠিক প্রস্তুতির অভাবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেন না। এর অন্যতম কারণ হলো সিলেবাস, পরীক্ষার ধরন, গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকা।
আপনি যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পদকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তাহলে নিচের ভুলগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।
১. সিলেবাস না বুঝে প্রস্তুতি শুরু করা: অনেকেই সিলেবাস না দেখে এলোমেলোভাবে পড়াশোনা শুরু করেন। পরীক্ষার আগে পুরো সিলেবাস বিশ্লেষণ করুন এবং বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা, ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স এবং আইসিটি সব বিষয়ের জন্য পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিন।
২. শুধু মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা করা: বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষায় মুখস্থের চেয়ে ধারণাভিত্তিক, বিশ্লেষণধর্মী এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রশ্নের গুরুত্ব বেশি। তাই প্রতিটি বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার করুন এবং নিয়মিত অনুশীলন করুন।
৩. ইংরেজি দক্ষতাকে অবহেলা করা: Grammar, Vocabulary, Reading Comprehension, Translation এবং Writing অংশে ভালো করতে নিয়মিত ইংরেজি চর্চা করুন। লিখিত পরীক্ষার জন্য শুরু থেকেই ইংরেজিতে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪. গণিতে নিয়মিত অনুশীলন না করা: শুধু সূত্র মুখস্থ করলেই হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সমস্যা সমাধানের অভ্যাস গড়ে তুলতে নিয়মিত গণিত অনুশীলন করুন।
৫. ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে আপডেট না থাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষায় ব্যাংকিং, অর্থনীতি এবং সমসাময়িক আর্থিক বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই মুদ্রানীতি, ব্যাংকিং খাত, অর্থনৈতিক সূচক এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকুন।
৬. মডেল টেস্ট ও বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলন না করা: শুধু পড়াশোনা করলেই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন। এতে প্রশ্নের ধরন বোঝা এবং সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়বে।
৭. নেগেটিভ মার্কিং উপেক্ষা করা: প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়। তাই নিশ্চিত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় অনুমানভিত্তিক উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৮. লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি দেরিতে শুরু করা: অনেক প্রার্থী প্রিলিমিনারির পর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন, যা একটি বড় ভুল। শুরু থেকেই Essay, Focus Writing, Translation এবং Analytical Writing অনুশীলন করলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা সহজ হয়।
৯. ভাইভা প্রস্তুতিকে গুরুত্ব না দেওয়া: ভাইভায় নিজের বিষয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সমসাময়িক অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত পরিচিতি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিতে পারা জরুরি। তাই লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ভাইভার জন্যও প্রস্তুতি নিন।
১০. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত না রাখা: আবেদনপত্র, প্রবেশপত্র, শিক্ষাগত সনদ, মার্কশিট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন। এতে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো যায়।
১১. শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে অবহেলা করা: দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পড়াশোনা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ শরীর ও ইতিবাচক মানসিকতা পরীক্ষায় ভালো ফল করার অন্যতম পূর্বশর্ত।
অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংক এডি নিয়োগ প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন:
বর্তমানে ব্যাংক,BCS,প্রাইমারি,NTRCA,11-20 তম গ্রেড সহ প্রতিটি চাকরির প্রস্তুতির অসংখ্য অনলাইন প্লাটফর্ম রয়েছে। এই সময়ের অনলাইন প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে শীর্ষে “বিদ্যাবাড়ি” দেশের লাখো চাকরির প্রার্থীদের কাছে সঠিক গাইডলাইন,অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী কর্তৃক টিচিং,সহজ পড়ার কৌশল প্রভৃতি কারণে প্রথম চয়েজ হয়ে উঠেছে । চলুন জেনে নেই, অনলাইনে কিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পরীক্ষা প্রস্তুতি নেওয়া যায় -
১। একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন
এমন প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করুন যেখানে ভিডিও ক্লাস, লাইভ সেশন, মডেল টেস্ট, প্রশ্নব্যাংক এবং নিয়মিত গাইডলাইন দেওয়া হয়।
২) প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করুন
অনলাইনে পড়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন, যাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
৩) প্রতিটি ভিডিও ক্লাস মনোযোগ দিয়ে দেখুন
ভিডিও শুধু চালিয়ে রাখবেন না। গুরুত্বপূর্ণ অংশ নোট করুন এবং ক্লাস শেষে নিজে অনুশীলন করুন।
৪) ক্লাসের পরপরই MCQ অনুশীলন করুন
যে বিষয়টি পড়লেন, সঙ্গে সঙ্গে সেই বিষয়ের প্রশ্ন সমাধান করুন এতে শেখা বিষয় দীর্ঘদিন মনে থাকে।
৫) নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন
সময় ধরে পরীক্ষা দিলে নিজের গতি, নির্ভুলতা এবং দুর্বলতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
৬) বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের পূর্ববর্তী প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে পরীক্ষার ধরণ বোঝা সহজ হয়।
৭) অনলাইন স্টাডি গ্রুপে যুক্ত থাকুন
অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করলে নতুন তথ্য জানা যায় এবং নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হয়।
৮) ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন
একদিন বেশি পড়ে কয়েকদিন বিরতি না দিয়ে প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত পড়াশোনা করুন। বাংলাদেশ ব্যাংক AD পরীক্ষায় সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হলো ধারাবাহিক প্রস্তুতি।
৯) পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত রিভিশন করুন
নতুন বিষয় শেখার পাশাপাশি আগের পড়াগুলোও পুনরায় পড়ুন, না হলে সহজেই ভুলে যেতে পারেন।
১০) আপনি চাইলে বাংলাদেশের শীর্ষ প্লাটফর্ম বিদ্যাবাড়ির অনলাইনে Bangladesh Bank (AD) Target Combained live Batch-2 এই লিংকে প্রবেশ করে স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে পারেন।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে ব্লগটি পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আশা করি, বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি (Assistant Director) পদ সম্পর্কে আপনার সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এবং প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এই ব্লগের মাধ্যমে পেয়েছেন। তবে মনে রাখবেন, কেবল সঠিক গাইডলাইন জানাই সাফল্যের জন্য যথেষ্ট নয়; সেই গাইডলাইন অনুযায়ী নিয়মিত, পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক পড়াশোনা করাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। তাই আজ থেকেই একটি কার্যকর স্টাডি প্ল্যান তৈরি করুন, নিয়মিত অনুশীলন করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি চালিয়ে যান। আপনার স্বপ্নের চাকরি অর্জনের এই যাত্রায় বিদ্যাবাড়ি সবসময় থাকবে আপনার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। সঠিক দিকনির্দেশনা, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবলই আপনাকে পৌঁছে দেবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।
বাংলাদেশ ব্যাংক AD নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসাকৃত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পদের জন্য কী যোগ্যতা লাগে?
উত্তর: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স বা মাস্টার্স পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন। তবে এসএসসি থেকে শুরু করে পুরো শিক্ষাজীবনে অন্তত দুটি প্রথম বিভাগ (বা সমমানের জিপিএ) থাকতে হবে এবং কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ থাকা চলবে না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংক এডির বেতন কত?
উত্তর: এটি সরকারি বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডের (২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা) একটি চাকরি । মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে শুরুতে হাতে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকার মতো আসে ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংক এডি ও অফিসার জেনারেল পদের পার্থক্য কী?
উত্তর: সহজ কথায়, পার্থক্যটা হলো গ্রেড ও কাজের ধরনে। এডি হলো ১ম শ্রেণীর (৯ম গ্রেড) কর্মকর্তা, যাদের কাজ মূলত নীতিনির্ধারণী ও তদারকিমূলক। অন্যদিকে অফিসার জেনারেল হলো ২য় শ্রেণীর (১০ম গ্রেড) পদ, যা এডির চেয়ে এক ধাপ জুনিয়র ।
প্রশ্ন: এডি প্রিলি পরীক্ষায় কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি নম্বর থাকে?
উত্তর: প্রিলি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে ম্যাথ (অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটিসহ) এবং ইংলিশ অংশ থেকে। প্রিলিতে টিকে থাকার জন্য এই দুটো বিষয়ে একটু বাড়তি জোর দেওয়া দরকার ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকলে আবেদন করা যাবে কি?
উত্তর: না, শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরেই (এসএসসি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি পর্যন্ত) যদি একটিও তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএ থাকে, তাহলে আর আবেদন করা যায় না।
প্রশ্ন: এডি ভাইভায় সাধারণত কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়?
উত্তর: ভাইভায় মূলত নিজের পড়ার বিষয়, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় । এছাড়া জটিল পরিস্থিতিতে আপনি কেমন সিদ্ধান্ত নেবেন, তা দেখার জন্য কিছু উপস্থিত বুদ্ধির প্রশ্নও করা হতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংক এডি পদে কত বছরে পদোন্নতি হয়?
উত্তর: এডি থেকে ডেপুটি ডিরেক্টর বা ডিডি হতে সাধারণত ৪ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যায় । তবে পদোন্নতির পুরো বিষয়টি ব্যাংকের তৎকালীন নিয়মকানুন এবং শূন্য পদের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে ।
প্রশ্ন: এডি নিয়োগ সার্কুলার সাধারণত বছরে কতবার প্রকাশ হয়?
উত্তর: সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে একবারই এডির সার্কুলার দেওয়ার চেষ্টা করে । তবে মাঝে মাঝে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা শূন্য পদের চাহিদার কারণে কিছুটা সময় বেশিও লাগতে পারে ।
Comments